বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যম খবর করেছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও নাকি জানিয়েছেন। কিন্তু সেই খবরের সঙ্গে কোনও ছবি দেখা দেখা যায়নি। যেটা প্রমাণ করে তাদের বৈঠকের কথা। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, পুরো খবরটি ভুয়ো। এরইমধ্যে যে খবর সামনে এসেছে, সেটি হল ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের বৈঠক। সেই বৈঠকের ছবি সহ গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা পাত্তাই পেলেন না। যেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দেখায় করতে পারলেন না ট্রাম্পের সঙ্গে, সেখানে বৈঠক করে ফেললেন শাহবাজ শরীফ। তাও আবার ওয়াশিংটনে। আসলে এটা কি বার্তা বহন করছে, প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে।
যখন মুহাম্মদ ইউনূস ব্যর্থ হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে, তখন শাহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠক করলেন ট্রাম্প। এমনকি বৈঠকটি হয়েছে জাতিসংঘের সাইড লাইনে নয়। ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস বৈঠক করলেন তারা। এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শোহবাজ শরীফ ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনীরকে মহান নেতা, মহান মানুষ বলেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পাক সেনাপ্রধানের জন্য একরাশ প্রশংসার ডালি মেলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও পাক প্রধানমন্ত্রী। ২০১৯ সালের পর ২০২৫-এ কোনও পাক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যেটা ঘিরে নানা আলোচনা চলছে বিশ্ব রাজনীতিতে। বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেটা সম্পর্কে তেমন কিছু জানা না গেলেও, সেটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এমনিতেই আমেরিকায় চলছে জাতিসংঘের সাধারণ সভা। এর মাঝেই ওয়াশিংটনে উড়ে গিয়ে দেখা করেন শাহবাজ।
বিগত বছরগুলিতে দেখা গিয়েছে, আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন সময় টানাপোড়েন। কিন্তু বর্তমানে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, দুই দেশের মধ্যে বরফ গলতে শুরু করেছে। সেটার একটি বড় কারণ, ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পিছনে ট্রাম্পের ভূমিকাকে পাকিস্তানের কৃতিত্ব দেওয়া। এরপরই বিভিন্ন সময় পাকিস্তানের প্রশংসা শোনা গিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে। এইবার শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, সেনাপ্রধানের প্রশংসা শোনা গেল ডোনাল্ট ট্রাম্পের মুখে।
অনেকে বলছেন, যেখানে ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করলেন না, সেখানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেটা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। এখন দেখার, এই বৈঠকের ফলাফল অন্য কোনও খাতে লক্ষ্য করা যায় কিনা!












Discussion about this post