আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। তবে সেই নির্বাচন যে অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না সেটাও এখনো পর্যন্ত স্থির হয়ে রয়েছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না এমনটাই নিশ্চিত। কারণ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা গুলি উঠানোর কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। এমনকি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন কমিশনও তাদের নিবন্ধন বাতিল করে রেখেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘোষণা ঘরে বাইরে চাপের মুখে নতি স্বীকার করা। তবুও এমসিপি বা জামাত এই ঘোষণায় খুশি নয়। এর মধ্যেই একটি সমীক্ষা রিপোর্ট সামনে এল। রাজধানী ঢাকার জাতীয় আর্কাইভস মিলনায়তনে ‘জনগণের নির্বাচন–ভাবনা’ শীর্ষক জনমত সমীক্ষার রিপোর্টে আওয়ামী লীগ কিন্তু খুব একটা দুঃখ পাচ্ছে না। কারণ এখনো বাংলাদেশের একটা ভালো অংশ তাদের পছন্দের তালিকায় রেখেছে।
ঘটনাচক্রে ভারত প্রথম থেকেই বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চেয়ে এসেছে। নয়া দিল্লি এটাও স্পষ্ট করেছে যে বাংলাদেশের নির্বাচন যেন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়। অর্থাৎ আওয়ামী লীগকেও ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিতে হবে। ভারতের চাপে আন্তর্জাতিক মহলে বহু দেশ আওয়ামী লীগের হয়ে সরব হয়েছে। যা ইউনূসের পক্ষে এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। এরমধ্যেই সামনে আসতে শুরু করেছে বাংলাদেশের একাধিক সংস্থার জনমত সমীক্ষার রিপোর্ট। যেমন ‘ইনোভিশন কনসাল্টিং’ নামে একটি ভোট পর্যবেক্ষণ সংস্থা এবং নাগরিকমঞ্চ ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ ও ‘বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক’ যে সমীক্ষা করেছে তাতে উঠে এসেছে চঞ্চল্যকর তথ্য। ওই সমীক্ষা রিপোর্ট বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে ছ’টি বিভাগের ভোটদাতাদের নিয়ে করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ ভোটদাতারা বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আবার জামাত ও আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানিয়েছে একটি করে বিভাগ। বিএনপি এগিয়ে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে। জামায়াতে এগিয়ে রয়েছে রংপুর বিভাগে। আর বরিশাল বিভাগে এগিয়ে রয়েছে ‘নিষিদ্ধ দল’ আওয়ামী লীগ।
শতাংশের বিচারেও আশ্চর্যজনক ফল সামনে আসছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, আগামী সরকার গঠনের জন্য সবচেয়ে যোগ্য দল বিএনপি। তাঁদের পক্ষে রয়েছে ৩৯.১ শতাংশ ভোটদাতা। এরপরেই রয়েছে জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশ, তাঁদের যোগ্য মনে করেন ২৮.১ শতাংশ। আর আওয়ামী লীগের পাশে রয়েছে ১৭.৭ শতাংশ ভোটদাতা। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে এটা একেবারেই প্রাথমিক সমীক্ষার ফলাফল। সময় যত এগোচ্ছে, ততই আওয়ামী লীগের প্রতি জনসমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এই ১৮ শতাংশ অচিরেই আরও বাড়বে এবং পরবর্তী কোনও সমক্ষায় হয়তো বিএনপি ও জামাতের ঘাড়ে নিঃশাস ফেলবে আওয়ামী লীগ।
মুহাম্মদ ইউনূসের ভয় এখানেই। তিনি জানেন আওয়ামী লীগ যদি কোনোভাবে ফিরে আসে বাংলাদেশে তাহলে তার রেহাই নেই। একই ভয় বিএনপি ও জামাত শিবিরে। সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত এনসিপি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। আর এর জন্যই বিএনপির সুর অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে। সম্প্রতি বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উস্মা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন জামা তো বিএনপিকে এক আসনে বসাচ্ছে ভারত, এটা ঠিক নয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস ভারতকে নানাভাবে উস্কানি দেয়ার চেষ্টা করলেও তলে তলে তিনি নয়া দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। ভারতে ১২০০ টন ইলিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত বা চিনি গুড়া চাল পাঠিয়ে দিল্লিতে খুশি করার চেষ্টায় রয়েছেন ইউনুস সাহেব। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, বিপদে পড়ে মোদির শরণাপন্ন হতে চাইছেন মুহাম্মদ ইউনুস। কারণ ভারতের পূর্ব সীমান্তে বিশেষ করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারত যেভাবে সৈন্য সমাহার করেছে সেটা ঢাকার অজানা নয়। শিলিগুড়ি করিডর হোক বা কলকাতা অত্যাধুনিক ডিফেন্স সিস্টেম ও আধুনিক সমরাস্ত্র মোতাহেন করে ভারত যে বার্তা দেওয়ার সেটা দিয়েছে। অপরদিকে ত্রিপুরা মেঘালয় ও আসাম সীমান্তেও সৈন্য সমাহার করেছে ভারত। বেশ কয়েকটি সামরিক মহড়াও করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সম্প্রতি কলকাতায় এক সেনাবাহিনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। আলাদা করে বৈঠক করেন তিন বাহিনীর প্রধান ও ইস্টার্ন কমান্ডের আধিকারিকদের সঙ্গে। সব মিলিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোন বড় পদক্ষেপ নিতে পারেন বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সেই কারণে হয়তো ইউনুসের মুখে এখন একটাই কথা চাচা আপন প্রাণ বাঁচা।












Discussion about this post