একা রামে রক্ষে নেই সুগ্রীব দোসর।
এক ইউনূসকে নিয়ে বাংলাদেশ ল্যাজেগোবরে। সেই গোবর চারিদিকে ছড়িয়ে দিল একটি চিঠি। চিঠি পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আর প্রাপক পরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। আর সেই চিঠি ফাঁস করেছেন আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। তারপর হৈহৈ রৈরৈ কাণ্ড।
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সিদ্ধান্ত। মন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ছবি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের এই নির্দেশে রাষ্ট্রপতি চুপ্পু যারপরনাই অসন্তুষ্ট। চিঠি লেখা ২৮ সেপ্টেম্বর। ঘটনায় যে চুপ্পু ক্ষুব্ধ এবং একই সঙ্গে মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন, সেটা চিঠির ছত্রে ছত্রে প্রমাণিত।
সাহাবুদ্দিন চুপ্পু আরও লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমি নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছি এবং সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। স্বাধীনতার পর থেকে যা ঘটেনি, তাই, করেছি। সেই ধারাবাহিকতায় প্রায় অর্ধশতাধিক অর্ডিন্যান্স জারি করে সরকারকে আইনগত পূর্ণ সহযোগিতা করেছি, যার ফলে সরকার আইনগত সবল অবস্থানে রয়েছে। তারপরেও কেন আমার ছবি সরিয়ে দেওয়া হল? ’
সরকারের জিরো পোর্ট্রেট নীতির প্রতি তাঁর সমর্থন আছে জানিয়েছে রাষ্ট্রপতি চুপ্পু বলেন,‘আমি তো আবদার করিনি যে আমার ছবিকে দায়মুক্তি দেওয়া হোক। আমার ছবি অপসারণের ক্ষেত্রে এই নীতি কৌশলে বাস্তবায়ন করলে গণমাধ্যমে খোরাক হওয়া এড়ানো যেত। এক্ষেত্রে মানসিক ভাবে আমার পূর্ণ সমর্থন থাকত।’
রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, ‘ছবিটা অপসারণের ক্ষেত্রে কৌশলী নীতি অবলম্বন করলে গণমাধ্যমের কাছে খোরাক হওয়া এড়ানো যেত এবং এতে আমার পূর্ণ মানসিক সহযোগিতা থাকত। কিন্তু এক রাতের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলকভাবে ছবিটি অপসারিত হওয়ায় তা শুধু গণমাধ্যমের উপজীব্য হয়নি, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আমার সম্মান চুল্লিস্থিত হল। এতে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা একজন সচেতন নাগরিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অপমাণিত হয়েছেন। এ বিষয়ে আমার কোনও অনুযোগ নেই, শুধু আর্তনাদ আছে।’
সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর ছবি সরিয়ে দেওয়ার জন্য কোনও লিখিত নির্দেশ পরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে জারি করা হয়নি। সব কিছু হয়েছে ফোনে-ফোনে। এই ঘটনা থেকে কয়েকটি প্রশ্ন উঠে আসছে। প্রথমত রাষ্ট্রপতি পদে আসীন কোনও ব্যক্তি কি তাঁর অধস্তন কোনও কর্মীকে চিঠি দিয়ে তাঁর ক্ষোভের কথা জানাতে পারেন। রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক প্রধান। তিনি দেবেন নির্দেশ। সেটা না করে তিনি করলেন ঠিক উলটো। যা নিয়ে সুশীল সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলের একাংশে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন, পরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল কেন? এই সিদ্ধান্ত একান্তই মন্ত্রকের নিজস্ব সিদ্ধান্ত না কি এনসিপি চাপ দিয়ে সরকারকে করিয়েছে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাষ্ট্রপতির চিঠিটিকে কি খোলা চিঠি হিসেবে ধরা যেতে পারে? তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন আপাতত দেশে ফিরছেন না বলেই খবর। তিনি কিছুদিন নিউ ইয়র্ক থাকবেন। সেখানে কিছু কাজ রয়েছে। সেই কাজ শেষ করে কবে তিনি ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। তবে চিঠিটি তিনি মেল মারফৎ পেতে পারেন।
এই চিঠি অভিমানের চিঠি। চিঠির ভাষাও লক্ষ্য করার মতো, যা থেকে স্পষ্ট যে রাষ্ট্রপতি তদারকি সরকারের একজন বাধ্য সন্তান বলে অভিহীত করেছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post