সোম সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বিএনপি নেতা তথা দলের ভাবী সাধারণ সম্পাদক অথবা ভাবী মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ। বর্তমানে তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য। ইদানিং বিএনপি তাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এখন থেকেই দলের একাংশ বলতে শুরু করেছে, মির্জা ফকরুল মির্জা আলমগীরের জমানা শেষ হতে চলেছে। শুরু হবে সালাহউদ্দিনের জমানা। সোমবার ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনের সময় সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, একটি গোষ্ঠী ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে ভাগ করতে চায়। বিএনপি ধর্ম ব্যবহার করে রাজনীতি করতে চায় না। একটি দল সামনের নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। নির্বাচন যাতে পিছিয়ে যায়, তার জন্য একটি মহল থেকে লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভোটের বাক্সে জনগণ এর জবাব দেবে। তাঁর বক্তব্যের লক্ষ্য যে আওয়ামী লীগ, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ
আওয়ামী লীগের নাম না করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি, একটি গোষ্ঠী, একটি রাজনৈতিক দল ধর্মের ভিত্তিতে জাতিতে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়। অনৈক্য সৃষ্ট করতে চায়। আপনারা, আমরা সবাই যেন সে ব্যাপারে সজাগ থাকি। আমরা লক্ষ্য করেছি, তারা বিভিন্ন রকম ইস্যু তৈরি করে এই দেশের আসন্ন নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়।’
সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘আমরা যারা বিএনপি করি, যারা বাংলাদেশে জাতিবাদে বিশ্বাস করি, আমরা ধর্মের ভিত্তিতে জাতিতে কোনও বিভেদ চাই না। আমরা ধর্মের ব্যবহার করে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাই না। আমরা ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন রাজনীতিক বিরুদ্ধে। আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক। সাংবিধানিকভাবে আমরা সবাই সিটিজেন। সিটিজেনের সমস্ত অধিকার সাংবিধানিকভাবে যা উল্লেখ করা হয়েছ সেটা কার্যকর করাই হবে আমাদের লক্ষ্য। আমাদের সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও বৈষম্য নেই। সমস্ত ধর্মের উপাসনালয়, কার্যক্রম এবং প্রচার স্বাধীনতা আছে।’
দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরণ নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে দাবি করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা অতীতেও সেই চক্রান্ত কার্যকর হতে দিইনি, আগামী দিনেও দেব না। ’
সালাহউদ্দিনের বক্তব্য থেকে যেটা উঠে এল যে বিএনপি ধর্ম নিয়ে রাজনীতিক করে না। করে আওয়ামী লীগ। প্রশ্ন হল কেন আওয়ামী লীগ গোড়া থেকে হিন্দু ভোটে পেয়ে এসেছে? কেন জামায়াত বা বিএনপি এই সম্প্রদায়ের ভোট পায় না? জাতীয় নাগরিক পার্টির ক্ষেত্রেও এই প্রশ্নটা করা যেতে পারে।
আসলে আওয়ামী লীগ হিন্দু ভোট পাওয়ার মতো একটা আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকী সে দেশে মন্দির ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা কম হয়নি। তারপরেও আওয়ামী লিগের হিন্দু ভোট ব্যাংকে ফাটল ধরেনি। বাংলাদেশের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ হিন্দু ভোট আওয়ামী লীগের জন্য আগাম বরাদ্দ হয়ে থাকে। এর জন্য কিছুটা হলেও অতীতে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় মোট জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠই ছিল সনাতন ধর্মী। কিন্তু একটা সময়ের পর তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করে। তারপরেও কিন্তু আওয়ামী লীগের ওপর হিন্দুদের আস্থা কমেনি। এর কৃতীত্ব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের। তিনি একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন। অপর দিকে বিএনপি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি স্বপ্ন ছিল একটি ইসলামিক রাষ্ট্র নির্মাণের। তাই, আওয়ামী লীগের ওপর মানুষের আস্থা এখনও আছে। আগামীদিনেও থাকবে বলে বিশ্বাস রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।












Discussion about this post