ঘটনাটা চলতি বছর এপ্রিলের, থাইল্যান্ডে।
এপ্রিলে থাইল্যান্ডে বসেছিল বিমস্টেক সম্মেলন। বৈঠকের এক ফাঁকে ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে নানা বিষয়ে উভয়ে মত বিনিময় করেন। ইউনূস প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অনুরোধ করেন ভারতের আশ্রয়ে থাকা হাসিনাকে উস্কানিমূলক বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য পদক্ষেপ করা হোক। সেই দিন প্রধানমন্ত্রী মোদি ইউনূসকে তাঁর প্রশ্নের জবাব দিয়েদিয়েছিলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সেদিনের বৈঠকের বিষয়ে বলে দুই নেতার মধ্যে ৪০ মিনিট কথা হয়েছে। বৈঠক ছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও গঠনমূলক।
এর পর ২৫ এপ্রিল ইউনূস কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, শেখ হাসিনা দাবি করেন তিনি এখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী । তিনি ভারত থেকে এই সব বিবৃতি দিচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকার ভারতে তাঁর অবস্থানকে কীভাবে দেখে? প্রশ্নের জবাবে যা বলেছেন, তার সারমর্ম – ভারত চাইলে হাসিনাকে রাখতেই পারে। এ ক্ষেত্রে তাঁর করণীয় কিছুই নেই। কিন্তু সেখানে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে না। হাসিনার বক্তব্য উস্কানিমূলক। আর এর জন্য তাদের ভুগতে হচ্ছে। পাল্টা মোদি তাঁকে বলেন, হাসিনা ভারতের আশ্রয় রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এ দেশে অবাধ ও মুক্ত। যে কেউ ব্যবহার করতে পারে।
এই বক্তব্যের পরে পরে ভারত প্রসঙ্গে ইউনূসের অবস্থান একেবারে বদলে যায়। ভারতপ্রেমী থেকে তিনি ভারত-বিদ্বেষী হয়ে ওঠেন। নানা সময়ে তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে একটা তুলে ধরার চেষ্টা করেন যে তাঁর সরকারের আমলে বাংলাদেশকে অশান্ত করার পিছনে রয়েছে ভারত। রাজনৈতিক থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার পিছনে দায়ী প্রতিবেশী রাষ্ট্র। যদিও সাউথ ব্লক ঢাকার এই বক্তব্যকে একেবারেই পাত্তা দিতে নারাজ।
এবার ইউনূস দ্বিতীয় রাস্তায় হাঁটলেন। তদারকি সরকারের তরফ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। যদিও সেই নিষেধাজ্ঞাকে নস্যি ঝাঁড়ার মতো ঝেড়ে ফেলে দলের কর্মীরা রাস্তায় নামে। এখানে-ওখানে তারা মিছিল, মিটিং করে। আর সেটা বন্ধ করতে নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করেন ইউনূস। পুলিশ, সেনা সহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে অবাধ স্বাধীনতা তুলে দেন। নির্দেশ দেন যেভাবেই হোক আওয়ামী লীগের এই সব রাজনৈতিক কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তাতেও হয়নি। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হয়, তার জন্য ঘন ঘন বৈঠকে বসে তদারকি সরকার প্রধান এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সেই বৈঠক থেকেও কোনও সমাধান সূত্রে বেরিয়ে আসেনি।
সরকার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে সিগন্যাল আর বোটিং বন্ধ করার। যদিও তাতে লাভের লাভ কিছু হবে না। কারণ, আওয়ামী লীগের হাজার হাজার কর্মীরা সিম তুলে রেখেছে। নেপালের অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে দুটি সামাজিক যোগযোগ বড় ভূমিকা রেখেছিল ইনস্টাগ্রাম ও ডিসকর্ড। আসলে ইউনূস পড়ে আছেন মান্ধাতা আমলে। এটা প্রযুক্তির যুগ। তাই, একটি অ্যাপ বন্ধ হলে আর একটি অ্যাপ খুলে যাবে। আর অ্যাপ খোলার অনেক রাস্তা আছে। ভিপিএন দিয়ে যে কোনও অ্যাপ চালানো যায়। বা অন্য কোনও প্রযুক্তি দিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে ফেলবে। আর যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া যায়, তদারকি সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দেবে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন উঠে আসে, ইন্টারনেট বন্ধ করেও কি কোনও আন্দোলন কোনও সরকার বন্ধ করতে পেরেছে?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post