বাংলাদেশে সরকার বদলের পর তদারকি সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণের পর পরে মহম্মদ ইউনূস সরকার একটা পরিকল্পনা করেন।ইউরোপীয় ইউনিয়ন গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির রাষ্ট্রদূত বা দূতাবাসের বরিষ্ঠ কূটনীতিকদের নিয়ে তিনি ঢাকায় একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি থেকে এসেছিলেন ইইউ-য়ের কূটনীতিকরা। ইউনূসের অনুরোধ ছিল, এই সব দেশের ভিসা অফিস যে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। প্রস্তাবে সায় দিয়েছিলেন কূটনীতিকরা। সেই বৈঠকের পর পেরিয়ে গিয়েছে এক বছর। প্রস্তাব খাতায় কলমে রয়ে গিয়েছে। এর সঙ্গে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়তে থাকায় দিল্লির ভিসা আরও কঠিন হয়েছে। ফলে, বিদেশে পড়তে যেতে ইচ্ছুক পড়ুয়াদের স্বপ্ন ফিকে হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সুইডেন, কানাডা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি বাংলাদেশিদের ভিসা দিতে অস্বীকার করেছে। জারি করেছে নিষেধাজ্ঞা।
এদিকে, চিকিৎসার জন্য সে দেশ থেকে ভারতে প্রতিবছর বহু মানুষ আসেন। কারণ, চিকিৎসার খরচ সবচেয়ে সহজ এবং সাশ্রয়ী। প্রতি বছর হাজার হাজার রোগী ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে যান। কিন্তু রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দিল্লি ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। সীমিত সংখ্যায় ভিসা দেওয়া হলেও দিতে দেরি হচ্ছে। থাকছে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা। ইওরোপ তো দূরের কথা। পূর্ব এশিয়ার যে দেশগুলিতে অন অ্যারাইভাল ভিসা পাওয়া যেত, এখন সেটাও বন্ধ হওয়ার পথে। বিশ্বের ৪৩ দেশ এই ধরনের ভিসা ইস্যু করত। গত এক বছরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সংকট থেকে সংকটময় হয়েছে।
সুইডেনে উচ্চশিক্ষার জন্য যাবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বাবদ আট লক্ষ টাকা জমা দিয়েছিলেন তারিন সুলতানা। সেপ্টেম্বরে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। ভিসা না পাওয়ায় স্বপ্ন জলে দিতে হয়েছে। এখন ওই টাকা ফেরত পাবে কি না, তা নিয়ে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারিন। তারিন সুইডেনের লিনিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন বলে আট লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য ভিসা পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব। আগে ১০০ জন ভিসার জন্য আবেদন করলে না হলেও ৩০ জন ভিসা পেতেন। এখন সিংহাভাগকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি শিক্ষা এজেন্সির সিনিয়র কনসালট্যান্ট তাজফিয়া মেহজাবিন বলেন, ইউরোপের কয়েকটি দেশের ভিসা পেতে বিলম্ব হচ্ছে। ভিসার প্রক্রিয়া সহজ। কিন্তু এখন বিষয়টা বেশ সময় সাপেক্ষ হয়ে দাড়িয়েছে। আবেদনকারীদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এমনকী যারা ভিসা পাওয়ার যারা যোগ্য, তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এক পূজামন্ডপ পরিদর্শনের সময় বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে সব ধরনের ভারতীয় ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থাকবে তার দেশ। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকলে ভারত ভিসা দেবে। তখন ভিসা জটিলতা কেটে যাবে বলেও মন্তব্য করেন ভারতীয় হাই কমিশনার।’
দুবাই, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান এবং কাতার টুরিস্ট ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া এবং কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলিও বাংলাদেশিদের ভিসা দিতে চাইছে না। চিনা ভিসা পাওয়া গেলেও বিমানবন্দরে যাচাই-বাছাইয়ের পর অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাইল্যান্ডের ভিসা পাওয়া গেলেও সময় লাগছে অত্যন্ত বেশি। মালয়েশিয়া বিমানবন্দরে অবতরণের পর সোজা যেতে হবে অভিবাসন দফতরে। সেখাকার আধিকারিকদের কোনও কারণে সন্দেহ হলে তৎক্ষনাৎ তাকে ফিরতি বিমানে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি আগামীদিনে আরও ভয়াবহ আকার নেবে, তা ধরে নেওয়া যেতে পারে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post