অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আরও ৫০ বছর ক্ষমতায় থাকতে চান। নিউ ইয়র্কে তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সংবাদ সংস্থা জিটিওকে। ওই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল জাজিরা, বিবিসির প্রাক্তন সাংবাদিক মেহেদি হাসান। তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে নেপালের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করেছিলেন, নেপালে, যেখানে এই বছরে কিছুদিন আগে সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, সেখানকার অন্তর্বর্তী নেতা মাত্র ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাংলাদেশের একটি নির্বাচনের জন্য কেন ১৮ মাস লাগছে বা লাগবে? জবাবে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর দাবি, অবশ্যই, আপনি বললেন, মানুষ বলছে অনেক সময় লাগছে। এমন মানুষও আছেন, যারা বলছেন ৫ বছর থাকুন, ১০ বছর থাকুন, ৫০ বছর থাকুন। সুতরাং মানুষ সব ধরনের কথা বলছে। আপনি থাকুন, নির্বাচন কেন? কার নির্বাচন দরকার?
নির্বাচনে যেতে এত সময় লাগার কারণ কী? সাংবাদিকের প্রশ্নে রীতিমতো ক্ষুব্ধ মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, হ্যাঁ, আপনি নেপালের উদাহরণ দিয়েছেন। নেপালের সরকার আমাদের পরিভাষায় একধরনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। অর্থাৎ আপনার দায়িত্ব একটি নির্বাচন আয়োজন করা। তাই সম্ভবত এটাই তাদের কাজ। বাংলাদেশ নিয়ে ইউনূসের দাবি, তাঁরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আমাদের কত দিন থাকতে হবে, তা কেউ নির্ধারণ করে দেয়নি। পাশাপাশি তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শিকড় উপরে ফেলতে সংস্কারের সাফাইও দিয়েছেন।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর ১৪ মাস পেরিয়ে গিয়েছে কিন্তু এখনও নির্বাচনের কোনও প্রস্তুতি নেই বাংলাদেশে। যা নিয়ে ঘরে বাইরে প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। বিদেশি সংবাদমাধ্যগুলিও চেপে ধরছে মুহাম্মদ ইউনূসকে। আর এই চাপ কমাতে তিনি সংস্কার ও বিচারের প্রসঙ্গই টেনে আনছেন বারবার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের মতে, মুহাম্মদ ইউনূস চাইছেন আরও বেশি দিন ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে। ৮৪ বছরের ইউনূসের ক্ষমতা লোভ এতটাই যে তিনি ছাত্রজনতার দাবির কথা বলে বারবার নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি করছেন। একটি মহলের মতে, ইউনূসের ক্ষমতার পিছনে রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব। তাঁরা কোনও মতেই নির্বাচন চায় না। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তন করে নিজেদের সুবিধা মতো একটি সংবিধানের রচনা। আর এটা নির্বাচিত সরকারের দ্বারা হবে না। ফলে মুহাম্মদ ইউনূসকে সামনে রেথে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমেই তা করিয়ে নেওয়া লক্ষ্য জামাতের। এদিকে আন্তর্জাতিক চাপ ও ঘরে বিএনপির চাপ। ফলে আপাতত আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু এখনও তাঁর মুখে সংস্কার ও বিচারের কথা ফুটে উঠছে। তিনি বলছেন বাংলাদেশের মানুষ চায় তিনি আরও ৫, ১০ বা ৫০ বছর খাকুক। আসলে এটা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটা পায়তাড়া।












Discussion about this post