জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন যোগ দিতে এগারো দিনের সফরে নিউ ইয়র্ক গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। মজার বিষয় তিনি এই সফরে একশো জনেরও বেশি সফরসঙ্গী নিয়ে গিয়েছিলেন। যা সম্ভবত এই অধিবেশণের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিদল। যাইহোক, তিনি এই সফরে একাধিক বেসরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, পাশাপাশি কয়েকটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। যেমন আল জাজিরার প্রাক্তন সাংবাদিক তথা জেটিও’র প্রতিষ্ঠাতা মেহেদি হাসানকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। যা নিয়ে বাংলাদেশ জুড়ে চলছে রাজনৈতিক তরজা। যেমন নির্বাচন নিয়ে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে তাঁর মতামত যথেষ্টই সমালোচিত হচ্ছে।
যেমন, বিবিসি ও আল-জাজিরার প্রাক্তন এই সাংবাদিক নেপালের সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে বেশি বিলম্বের কারণ জিজ্ঞেস করেছিলেন। উত্তরে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমরা একটি অন্তর্বর্তী সরকার। আমাদের মেয়াদ কতদিন হবে এটা কেউ নির্ধারণ করে দেয়নি। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত, এখানে আমরা কতদিন থাকবো। তিনি আরও বলেছেন, কেউ এমনও বলেন, এই সরকার ৫ বছর, ১০ বছর, এমনকি ৫০ বছর পর্যন্ত থাকুক। কিন্তু আমরা ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিক বিদেশী মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। প্রতিবারই তিনি যা দাবি করেছেন, এবারও তাই করলেন। তাঁর দাবি, আমাদের প্রধানত তিনটি কাজ। প্রথমত সংস্কার, এরপর বিচার এবং সবশেষে নির্বাচন। আমরা এখন সংস্কারের কাজ করছি। এটা অনেক বড় একটা কাজ। অর্থাৎ, এবারও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, আরও দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার একটা পায়তাড়া কষলেন। ইউনূসের এই মন্তব্য যে আসবেই সেটা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল মোটামুটি নিশ্চিত ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগকে নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য, যথেষ্টই হইচই ফেলেছে বাংলাদেশে।
আওয়ামী লিগকে তাদের কার্যক্রম চালুর অনুমতি ফিরিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। ওই সাক্ষাৎকারে এমনই আভাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে আইনি অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ নয়। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে। এরপরই মুহাম্মদ ইউনুসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাহলে কি আওয়ামী লিগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে? এর জবাবে ইউনূস সাহেব বলেন, না, সেটা পারবে না। কারণ নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন বাতিল করেছে, অন্তর্বর্তী সরকার করেনি। সরকার শুধু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাতিল করেছে। এরপরই ইউনুসের দাবি, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে বৈধ, তবে এখন তাঁদের কার্যক্রম স্থগিত। যে কোনও সময কার্যক্রম চালু করা হতে পারে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের কারণে ইউনুস সরকারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে। ভারত-সহ একাধিক দেশ এটা নিয়ে সরব। এমনকি দেশেরে ভিতরেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। আবার সিদ্ধান্তটি কতটা সঠিক তা নিয়েও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে সংশয় আছে। কেউ কেউ বলছেন, গত ১২ মে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের কর্মসূচি আরও বেড়ে গিয়েছে। এখন তো তাঁরা রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে মিছিল ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করছে। যা মোকাবিলা করতে অক্ষম ইউনূসের সরকার। ফলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম ফিরিয়ে দিয়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা যেতে পারে বলেই মনে করছেন অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ফলে চাপে পড়ে সুর পাল্টাচ্ছেন মুহাম্মদ ইউনূস।











Discussion about this post