প্রতিযোগিতামূলক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিবেশে দেশীয় ড্রোনের দক্ষতা এবং তাদের কর্মক্ষমতা যে কতটা তা দেখানোর জন্য সম্প্রতি হরিয়ানার আম্বালার কাছে ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে “বায়ু সমন্বয়” মহড়া অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। পাকিস্তান সীমান্তের কাছেই ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং বেসরকারি ড্রোন নির্মান সংস্থার এই যৌথ মহড়া কেবলমাত্র পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশের জন্যও একটি বার্তা বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, এই মহড়া তাঁদের নিজস্ব সৈন্যদের অপারেশনাল প্রস্তুতি যেমন তুলে ধরেছে তেমনই যুদ্ধক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মধ্যে দ্রুত সমাধান করতেও সাহায্য করেছে। পাশাপাশি চালকবিহীন উড়ানের উদ্ভাবন, কৌশল এবং পদ্ধতি পরিবর্তন করার ক্ষমতার উপর জোর দিয়েছে। সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, ভারতের নিজস্ব বেসরকারি সংস্থাও এখন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন তৈরি করছে।
ভারতের সেনার আধিকারিকরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, আগামীদিনে লড়াইয়ে চালকবিহীন হালকা লড়াকু বিমান থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক ড্রোন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে। সেই কারণেই বেসরকারি সংস্থাগুলিকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন তৈরির জন্য। যা মূলত পাঁচ থেকে দশ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারবে এবং পাঁচ কিলোগ্রাম পর্যন্ত পে লোড নিতে পারবে। আম্বালার কাছে নারায়ণগড় ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে পাঁচ দিনের ড্রোন যুদ্ধ মহড়া ‘এক্সারসাইজ বায়ু সমন্বয়’ নানা ধরণের ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক এবং প্রতিরক্ষামূলক কৌশল প্রদর্শন করেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রায় চার বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোনই প্রধান শক্তি। আবার ৮৮ ঘন্টার অপারেশন সিঁদুরে ড্রোন বা ইউএএস-এর ভূমিকা গোটা বিশ্বই দেখেছে। পাকিস্তান যখন চিনা ও তুর্কির ড্রোন ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল, তখন ভারতের পাল্টা ড্রোন সেগুলি শুধু ধ্বংসই করেনি, উল্টে পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে ঘাতক ভূমিকা নিয়েছিল। ফলে যত সময় এগোচ্ছে, ততই যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ভূমিকা প্রকট হয়ে উঠছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের জিওসি-ইন-সি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ কাটিয়ার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বায়ু সমন্বয় ড্রোনগুলি স্থানীয়ভাবে উপলব্ধ সম্পদ এবং উন্নত বিস্ফোরক পেলোড ব্যবহার করে ফিল্ড ফর্মেশন দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।
মানবহীন যুদ্ধাস্ত্রের ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান স্বনির্ভরতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে তুলে ধরতেই “বায়ু সমন্বয়” মহড়া খুব কার্যকরী বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ভারতের পশ্চিমপ্রান্তে পাকিস্তানের দিক থেকে যেমন ভারতের হুমকি রয়েছে। তেমনই পূর্ব প্রান্তে বাংলাদেশ থেকেও ক্রমাগত হুমকি আসছে। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের সেভেন সিস্টার্স বা উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে নিয়ে বেশ কয়েকবার হুমকি দিয়েছেন। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরও। ফলে ভারতের সঙ্গে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত ভাগ করা বাংলাদেশও এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর নজরে রয়েছে। ফলে যত অত্যাধুনিক ড্রোন তৈরি হবে, ততই লাভবান হবে ভারতীয় সেনা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা সীমান্তে তুর্কিতে তৈরি বাংলাদেশের একটি ড্রোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফলে এই এলাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই মুহূর্তে। সেই দিক থেকে ভারতের পশ্চিমপ্রান্তে অনুষ্ঠিত হওয়া বায়ু সমন্বয় মহড়া পূর্বপ্রান্তের যুদ্ধক্ষেত্রেও কাজে আসবে, এ কথা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post