বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রোমাঞ্চকর খবর হতে দেখা গিয়েছে। সাম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন গনমাধ্যমে সেনাপ্রধানকে নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর খবর ছড়িয়ে পড়তে দেখা গিয়েছে। মজার বিষয় হল কোন কোন গণমাধ্যম এই খবরটি প্রকাশ করেও আবার তা সরিয়ে দিয়েছেন, তবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমে খবরটি প্রকাশের পর তা আর সরিয়ে ফেলা হয়নি, এমন কি বাংলাদেশ আইএসপিআর থেকেও খবরটিকে পুরোপুরি অস্থিকার করা হয়নি। তাই খবরটি কতটা সত্যি তাই নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু খবরটি যদি সত্যি হয় তাহলে এই খবরটি বর্তমান সময়ে ভারত এবং বাংলাাদেশের মধ্যে সব চেয়ে বড় বার্তা বহনকারী খবর বলেই বিবেচিত হবে। কারণ বাংলাদেশের সেনাপ্রধান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন। কিন্তু গত ৫ই আগস্ট ২০২৪ এর পর সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান ভারত সফরে যাবেন এই ঘটনাটি একটি আলাদা মাত্রা বহন করে।বিশেষ করে আওয়ামীলীগের জন্য। যখন ইউনূস সাহেব বলেছেন যে আওয়ামীলীগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি, শুধু মাত্র তাদের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। এবং সেটিও সাময়িক। আর প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যের পর, সেনাপ্রধানের ভারত সফরের খবরটি একটি বিশেষ বার্তা বহ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের নেত্রী সহ অনেক নেতা কর্মিই ভারতে অবস্থান করছে, সেনাপ্রধানের এই সফর তাদের অবস্থানকে কি প্রভাবিত করবে। ঠিক কি কারণে সেনাপ্রধানের ভারত সফর সেটি একটু বুঝে নেওয়া যাক।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সেনা পাঠানো দেশগুলোকে নিয়ে একটি সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত, যেখানে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানেরও অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৪ অক্টোবর দুই দিনের এ সম্মেলন শুরু হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
সেনাপ্রধান এই সম্মেলনে যোগ দিলে তা হবে চব্বিশের অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর ভারতে বাংলাদেশের প্রথম উচ্চ পর্যায়ের সফর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর—আইএসপিআর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছে, এ বিষয়ে তাদের হাতে এখন কোনো তথ্য নেই। সেনাপ্রধানের সফরের কোনো সূচি হলে জানিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ তারা বলেনি যে সেনাপ্রধানের ভারত সফরের কোন প্রশ্নই নেই। তারা শুধু বলেছে তাদের হাতে সূচি এলে জানিয়ে দেওয়া হবে।
খবরের ঐ সূত্রটি জানাচ্ছেসম্মেলনে ৩০টির বেশি দেশের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব অংশগ্রহণ করবেন।
এ সম্মেলনকে একটি ‘অনন্য প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাকেশ কাপুর।
সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদের অধীনে বিশ্বশান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে যৌথ দায়িত্ব রয়েছে, সে বিষয়ে এ সম্মেলনে সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতি একত্রিত হবে।
সম্মেলনে বাংলাদেশের পাশাপাশি আলজেরিয়া, আর্মেনিয়া, ভুটান, ব্রাজিল, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, আইভরি কোস্ট, ইথিওপিয়া সহ বিভিন্ন দেশের সেনাপ্রধানসহ জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
সম্মেলনের বিস্তারিত তুলে ধরে রাকেশ কাপুর বলেন, দুটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন থাকবে। একটি হবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের টেকসই কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহের বিষয়ে। আরেকটি অধিবেশনে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে প্রযুক্তি ব্যবহারের নানা দিক তুলে ধরা হবে।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের হিসাবে, বর্তমানে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৫ হাজার ৬৮৫ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন। এখন দেখার এই সফর কি শুধু জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের অনুষ্ঠান হয়েই থেকে যায় নাকি ভারত বাংলাদেশের অস্থিরতা কমানোর কোন নতুন সমাধান বেরিয়ে আসে।











Discussion about this post