আওয়ামী লীগের একটি বিশাল সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল সেপ্টেম্বরে। কিন্তু কোনও কারণে সেটি এক মাস পিছিয় দেওয়া হয়েছে। চলিত মাসে সেই মেগা শো দেখবে গোটা বিশ্ব। গোয়েন্দা সূত্রে খবর তেমনই। একটি সুনির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে তারা সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে চলেছে। গোয়েন্দা সূত্রে আরও খবর, ঢাকাতে তো বটেই, দেশের অন্যান্য প্রান্তেও মানসিক দিক দিয়ে তৈরি হয়ে আওয়ামী লীগ নামতে চলেছে। তাদের মূল মন্ত্র হয়ে উঠেছে করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে।
গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল, হাসিনার জন্মদিনে ২৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ বড় ধরনের একটি কর্মসূচি নিয়েছে। সেই কর্মসূচি বাস্তবায়িত করতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে। কিন্তু সেপ্টেম্বরে সেই কর্মসূচি দেখা গেল না। এর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, দলের একাধিক নেতা-কর্মসূচি গ্রেপ্তারের পর হয়তো তাদের গোপন কর্মসূচির কথা পুলিশ জেনে গিয়েছে। তাই, তারা তাদের সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে। গোয়েন্দা সংস্থা খবর পেয়েছে, যে আওয়ামী লীগের টার্গেট এবার অক্টোবর। কয়েক লক্ষ কর্মীসমর্থককে জড়ো করবেন। কর্মসূচি শুরু হবে ধানমন্ডী থেকে। এমনকী যমুনা চলো কর্মসূচিও তারা নিতে পারে।
আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কর্মসূচি প্রসঙ্গে গোয়েন্দা দফতর বলছে, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হল ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন বানচাল করা। অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া। সূত্র বলছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একটি কোর গ্রুপ থেকে। মিশন বাস্তবায়িত করতে সারা দেশে আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, ছাত্র লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী আত্মগোপনে থেকে নাশকতার ছক তৈরি করেছে। এদের পরিকল্পনা রয়েছে, রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিদিন ঝটিকা মিছিল বের করবে। চক্রের অনেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ধরপাকড় ব্যর্থ রয়েছে। একটি সূত্রের খবর অনুযায়ী, তদারকি সরকার প্রশাসনক কর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। গোপন তথ্য আদান প্রদানে পুলিশের সিক্রেট অ্যাপস গ্রুপে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তৈরি করা হয়েছে কাউন্টার ইন্টিলিজ্যান্স টিম।
অতিরিক্ত আইজিপি (অপারেশন এবং অপস) খোন্দকর রফিকুল বলেন, ‘পরাজিত শক্তি নানাভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্ন করার অপচেষ্টা চলছে। দুর্গাপুজোর মধ্যে একবার সেই চেষ্টা চলে। কিন্তু পুলিশ এবং প্রশাসন সজাগ থাকায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারেনি। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে বাইরে থেকে নানাভাবে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। ’
পুলিশের মধ্যেও আওয়ামী লীগপন্থী যারা আছে, তারা খবর পাচার করে দিচ্ছে এই অভিযোগ প্রসঙ্গে খোন্দকর রফিকুল বলেন, এটা পুলিশের পুরনো একটি ব্যধি। অধিকাংশ লোক পেশাদার। তবে এই রকম লোক দু-একটা থাকে না বলা যাবে না। এছাড়া দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা একটি দলে কিছু আস্থাভাজন রয়ে গিয়েছে। সংখ্যাটা আগের তুলনায় অনেক কম। আগামীদিনেও আরও কমে যাবে। তবে এরা যাতে কোনও নেগেটিভ রোল প্লে করতে না পারে, সে দিকেও আমাদের সতর্ক দৃষ্ট থাকবে।’
কিন্তু সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি অক্টোবরে এটা কী নিছক গল্প। যুগান্তর পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী এটা গল্প নয়। চলতি মাসে বড় ধরনের কর্মসূচি নিতে চলেছে।
পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ‘কোনো ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসবিরোধী কাজ করলে কাউকেই রেহাই দেব না। আমার রেঞ্জের মধ্যে যদি কেউ এমন অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্র চালায় তাহলে সবাইকে আইনের আওতায় আনব।’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post