সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এতোদিন চুপচাপ ছিলেন। প্রায় ১৪ মাস বাদে কার্যত তদারকি সরকারের বিরুদ্ধে তিনি মুখ খুললেন। বলা যেতে পারে ফাটালেন একটি পত্রবোমা। আর সেই বোমার পোড়া বারুদ আর কালো ধোঁয়ায় দিশেহারা ইউনূস এবং তাঁর সরকার। প্রায় ১৪ মাস তিনি ছিলেন অজ্ঞাতবাসে। বিগত মাসে দেশবাসী না শুনেছে তার কোনও মন্তব্য, না তিনি কোনও বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। যা কিছু হয়েছে সেটা তদারকি সরকারের তরফ থেকেই হয়েছে। তদারকি সরকার প্রধান বা সরকারের কোনও আধিকারিক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে দেখা করলে সরকারের তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে সেই বৈঠকের খবর দেওয়া হয়েছে। সেনাকর্তা বা বাহিনীর কেউ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার পর সেই বৈঠক নিয়ে বিবৃতি দিতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ছিলেন কার্যত ঠুটো জগন্নাথ। আর ঠুটো জগন্নাথ হওয়া ছাড়া তার আর কিই বা করার ছিল। কারণ, তিনি রাষ্ট্রপতি হলেও আসলে যে আওয়ামী লীগের সদস্য।
আসলে রাষ্ট্রপতির এই পত্রবোমা বিস্ফোরণের পিছনে রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাস থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। এটা তাঁর আঁতে ঘা দিয়েছে। আত্মসম্মানে লেগেছে। বিষয়টি তিনি জানতে না। বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাস থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে দেওয়ার খবরটি ফাঁস করেছেন আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। একে তাঁকে অন্ধকারে রেখে ছবি সরিয়ে দেওয়া, তারওপর ছবি সরিয়ে দেওয়ার খবর পেয়েছেন এক বিদেশি সাংবাদিকের স্কুপ নিউজ থেকে। ফলে, তাঁর পক্ষে এটা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আরও বেশ করে কঠিন হওয়ার কারণ, আওয়ামী লীগের একজন কট্টর সমর্থক হওয়ার পরেও কিন্তু তিনি তদারকি সরকারের কার্যত তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন। আর সেই সরকার তাঁকে কিছু না জানিয়ে পটাপট পটাপট বিভিন্ন দূতাবাস থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, এটা কার নির্দেশে হয়েছে? তদারকি সরকারকে কি দলের কেউ এমন নির্দেশ দিয়েছিল? কিংবা সেনাবাহিনী? বা বিএনপি? এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিশেষ কিছুই জানা যায়নি। তবে রাষ্ট্রপতি যে মানসিকদিক থেকে ভেঙে পডে়ছেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
ঘটনা হল, ছবি সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে দেড় মাস আগে। তাহলে এতোদিন রাষ্ট্রপতি কেন চুপ ছিলেন? কারণ নিশ্চই রয়েছে। ছবি সরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয় ১৫ অগাস্ট। আর রাষ্ট্রপতির প্রতিক্রিয়া এল দেড় মাস বাদে। এর সম্ভাব্য কারণগুলি এরকম হতে পারে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। সেনাপ্রধানের সঙ্গে ইউনূসের দ্বন্দ্ব ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। চুপ্পু বুঝে গিয়েছেন, এই মুহূর্তে তাঁর ইস্তফার দাবিতে কেউ সরব হবে না। সুতরাং, নিজেকে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার এটাই মোক্ষম সময়। তাছাড়া নির্বাচন নিয়ে ইউনূসের ওপর একটা চাপ রয়েছে। একে কেন্দ্র করে সব ইউনেসীয় তত্ত্ব বা চক্রান্ত বানচাল হয়ে গিয়েছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাষ্ট্রপতির সাহস। সাহাবুদ্দিন চুপ্পু যদি এক কলমের খোঁচায় এই সরকারকে বরখাস্ত করে দেয়, তাহলে ইউনূসের হাতে যেটুকু ছিল, সেটুকুও যাবে। তাই, তদারকি সরকার সব জেনে শুনেও রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে একটি শব্দ খরচ করছে না। আর সেনাপ্রধান রাষ্ট্রপতির পাশে রয়েছে। তাই, তদারকি সরকারের আর সাহসে কুলোয়নি। তাছাড়া গত ১৪ মাসে ইউনূস সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা আর কোনওভাবেই নিরপেক্ষ নন।











Discussion about this post