বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিস থেকে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ছবি সরানোর নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের আগস্ট মাসে এই নির্দেশনা আসার পরই বেশ কয়েকটি দেশের বাংলাদেশি দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। যদিও এই নির্দেশনা নিয়ে বাংলাদেশে ব্যপক বিতর্ক হয়েছিল। সেই সময় রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে আচমকা প্রায় মাস দেড়েক পর তিনি একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বুধবার নিজের ভেরিফায়েয়েড ফেসবুক পেজে ওই চিঠি প্রকাশ করে এ তথ্য জানান অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। তাতে দেখা যাচ্ছে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ রাষ্ট্রপতি ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে বাংলাদেশি সাংবাদিক এটাও দাবি করেছেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এখনও চিঠিটি পেয়েছেন কি না, তিনি সে বিষয়ে নিশ্চিত নন।
ওই চিঠির বয়ানে দেখা যাচ্ছে, অভিমানী রাষ্ট্রপতি দুটি বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছি। সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন থেকে তাঁর ছবি অপসারণের ঘটনার কথা উল্লেখ করে ওই চিঠিতে রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন এবং দায়িত্ব পালনরত দেশের রাষ্ট্রপতি যেন অপদস্থ না হন সে জন্য কি কৌশলী পদক্ষেপ নেওয়া যেত না? চিঠিতে তাঁর আরও দাবি, প্রায় অর্ধশতাধিক অর্ডিন্যান্স জারি করে সরকারকে আইনগতভাবে পূর্ণ সহযোগিতা করছি। সরকার আইনগতভাবে সবল অবস্থানে আছে। ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত দেশের সংকটকালে আমার কার্যক্রমও প্রনিধানযোগ্য। তবে কেন ছবি অপসারণের ক্ষেত্রে এরূপ দৃষ্টিকটু উদ্যোগ নেওয়া হল?
রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, রাষ্ট্রপতির এই চিঠি প্রকাশ্যে চলে আসায় অন্তর্বর্তী সরকার আরও অস্বস্তিতে পড়ল। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, এমন একটা সময় রাষ্ট্রপতি মুখ খুললেন, যখন আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা বেকায়দায় মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বাতিল করার জন্য, দ্রুত নির্বাচন না দেওয়ার জন্য। এই পরিস্থিতিতে তাঁর ছবি অপসারণের যে ঘটনা ঘটেছিল, সেই ঘটনা আবার সর্বসমক্ষে নিয়ে এসে রাষ্ট্রপতি কুশলী চাল দিলেন।
মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের বিড়ম্বনা এখানেই শেষ নয়। জানা যাচ্ছে, অক্টোবর মাসের মাঝামা্ঝি ভারত সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। সূত্রের খবর, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সেনা পাঠানো দেশগুলোকে নিয়ে একটি সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত। সেখানে আমন্ত্রিত বাংলাদেশের সেনাপ্রধানও। ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের পাশাপাশি আলজেরিয়া, আর্মেনিয়া, ভুটান, ব্রাজিল, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, আইভরি কোস্ট, ইথিওপিয়া, ফিজি, ফ্রান্স, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, কাজাখস্তান, কেনিয়া সহ আরও বহু দেশের সেনাপ্রধানদের উপস্থিত থাকার কথা। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের হিসাবে, বর্তমানে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৫ হাজার ৬৮৫ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন। ফলে ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের উপস্থিতি থাকবে এটা বলাই বাহুল্য। কিন্তু লাখ টাকার প্রশ্ন হল, জেনারেল ওয়াকার কি আদৌ ভারতে আসবেন, বা তাঁকে ভারতে যাওয়ার ছাড়পত্র দেবে অন্তর্বর্তী সরকার? বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর বা আইএসপিআর এখনও পর্যন্ত সেনাপ্রধানের সফরের কোনও সুচি প্রকাশ করেনি। ফলে তাঁর ভারত সফর নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। তবে যদি তিনি ভারত সফরে আসেন, তবে গণঅভ্যুত্থানের পর এটাই হবে তাঁর প্রথম ভারত সফর। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।











Discussion about this post