বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে জরুরি তলবে হাজির হয়েছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা। যাদের মূলত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বলা যায়। জানা যাচ্ছে, এই জরুরি তলবের পিছনে মূল কারণ আওয়ামী লীগকে নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিকতম মন্তব্য। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নিউ ইয়র্কে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ এখনও বৈধ, তাঁদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সেটা তুলে নেওয়াও যেতে পারে। ইউনূসের এহেন মন্তব্যের পরই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু একটা ঘটছে। মূলত পর্দার পিছনেই সেটা ঘটছে। গত বছর জুন-জুলাই মাসে যে শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন দানা বেধেছিল, তার পিছনে জামাত ও তাঁদের ছাত্র সংগঠন বড় ভূমিকা নিয়েছিল সেটা এখন সকলেই জানেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে তাড়িয়ে ক্ষমতার দখল নেওয়া। যাতে বাংলাদেশকে ইসলামিক দেশে পরিণত করা যায়। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে, ততই বিষয়টা ঘোলাটে হতে শুরু করেছে। তীরে এসেই যেন তরী ডুবছে জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশের। তাঁরা এখন চরম রাজনৈতিক সংকটে ভুগছে। জানা যাচ্ছে, বসুন্ধরায় ডাকা জরুরি বৈঠকে জামাতের প্রধান আমীর ড. সফিকুর রহমান আক্ষেপের সুরে বলেছেন, হয়তো তীরে এসেই তরী ডুবলো।
অপরদিকে বাংলাদেশের আরেকটি সংগঠনও চরম হতাশায় ভুগছে। তাঁরা হল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্য সামনে আসার পরই কার্যত দিশেহারা এনসিপি নেতারা। দলের অন্যতম আহ্বায়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী রীতিমতো হুমকি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ইস্যুতে মুহাম্মদ ইউনূস যদি এই কাজ করতে চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁরও পতন আসন্ন।
এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর এই বক্তব্যের পাশাপাশি তাঁর মুখের ভাষা পড়তে পাড়লে বুঝবেন, কতটা হতাশায় ভুগছেন তিনি। এত চেষ্টা করেও আওয়ামী লীগকে কার্যত ঠেকানো যাচ্ছে না। এখন তো আগেভাগেই ঘোষণা দিয়েই তাঁরা ঢাকা-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ঝটিকা মিছিলের আয়োজন করছে। প্রতিটি মিছিলে হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হচ্ছেন। একেকদিনে একাধিক মিছিল হচ্ছে ঢাকায়। এই পরিস্থিতিতে যথন মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা যদি তুলে নেওয়া হয়, তাহলে আওয়ামী লীগকে ঠেকানো আর সম্ভব হবে না। তাঁরা বন্যার জলের মতো ঢুকে পড়বে বাংলাদেশে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ দাবি করছেন, ভারত ছাড়া যে বাংলাদেশের এগোনো সম্ভব না, সেটা জামাত নেতারাও বুঝতে পেরেছেন। তাই তাঁরা তলে তলে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ভারত জামাত নেতাদের নিয়ে খুব একটা আগ্রহী নয়। উল্লেখ্য, এই সেপ্টেম্বর মাসেই আফগানিস্তান সফরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক-সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় সাতজন আলেম। সূত্রের খবর, বর্তমান তালিবান সরকারের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে জামাত একটা যোগসূত্র তৈরি করতে চেয়েছিল। সেই কারণেই খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে আফগানিস্তানে পাঠিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু ভারতের অনড় মনোভাবের জেরে জামাত এখন অনেকটা ব্যকফুটে। অপরদিকে, আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপতেই ভারত আন্তর্জাতিক মহলে চাপ সৃষ্টি করেছে যাতে সকলে মিলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলা যায়। এই চাপের কাছেই কার্যত নতীস্বীকার করছেন মুহাম্মদ ইউনূস। আর সেই সঙ্গে চাপে পড়ছেন, জামাত, এনসিপি নেতারা।











Discussion about this post