উপদেষ্টা পরিষদের অনেককেই বিশ্বাস করাটা ছিলো অনেক বড় ভুল। তাদের প্রতি আস্থা রেখে প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সেইসব উপদেষ্টাদের নাম প্রকাশের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর ড. ইউনূসের সরকারে যোগ দেন ছাত্র প্রতিনিধিরা। পরে এক জন পদত্যাগ করে হাল ধরেন তরুণদের দল এনসিপির। এখনও উপদেষ্টা পরিষদে আছেন দুই জন। ছাত্রদের উপদেষ্টার আসনে বসাটা কি ভুল ছিলো, সেই প্রশ্ন ছিলো এনসিপির আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের কাছে। তিনি বলেন, ছাত্ররা উপদেষ্টা না হলে সরকার তিন মাসও টিকতো না।
একাত্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নাহিদ জানান, কয়েকজন উপদেষ্টাকে বিশ্বাস করা তাদের সবচেয়ে বড় ভুল। যাদের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি। অচিরেই ওই উপদেষ্টাদের নাম প্রকাশ করার কথাও বলেন নাহিদ। শুধু তাই নয়, উপদেষ্টাদের অনেকে সেফ এক্সিট নিয়ে এখনই ভেবে রেখেছেন বলেও দাবি করেন নাহিদ। তারা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াঁজো করে রেখেছে বলেও একাত্তরের কাছে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।
এর আগেও নাহিদ তদারকি সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। সেটা জুলাইয়ের ঘটনা। নাহিদ রাখ ঢাক না করেই তদারকি সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রাফিকুল আব্রারেকে নিশানা করেন। নাহিদ বলেন, দেশে যখন চূড়ান্ত সংকট চলছে, সেই সময় শিক্ষা উপদেষ্টার যে ভূমিকা পালন করার কথা ছিল, তিনি সেই ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার যদি মানবিকতা এবং দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতেন, তাহলে এখন দেশ যে চূড়ান্ত অব্যাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। তদারকি সরকার সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি বলে দেশে এখন ডামাডোলের পরিস্থিতি।
কথা বলেছেন, এনসিপির প্রতীক নিয়েও। নাহিদ বলেন, ‘এনসিপিকে শাপলা প্রতীক না দেয়ার আইনি ব্যাখ্যা না দিলে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ইসির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যেতে দল দ্বিধা করবে না। শাপলা প্রতীকের ব্যাপারে গণজোয়ার তৈরি হওয়ায় এনসিপিকে এই প্রতীক না দিতে ইসিকে চাপে ফেলছে একটি পক্ষ। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে এটি পাওয়ার যৌক্তিকতা নেই তাহলে সেটার আইনি অথবা সাংবিধানিক ব্যাখ্যা আমাদের দিতে হবে। তারা কিন্তু কোনো ধরনের ব্যাখ্যা দিচ্ছে না। যতগুলো যুক্তি দেখিয়েছিল সবগুলো যুক্তিই আমরা খণ্ডন করেছি আইনগতভাবে। শাপলা প্রতীক দিতে রাজি না হওয়া বেআইনি এবং স্বেচ্ছাচারী আচরণ বহি:প্রকাশ হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের। আমরা বলবো যে আমরা ন্যায় বিচার পাচ্ছি না।’
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, এনসিপিকে শাপলা প্রতীক বরাদ্দ দিলে আক্ষেপ থাকলেও আইনি লড়াইয়ে যাবে না তার দল। নিবন্ধনের জন্য ২২ জুন নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। শুরুতে শাপলা, কলম ও মোবাইল ফোনের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিতে যেকোনো একটি বরাদ্দ চেয়েছিল দলটি। তবে, পরবর্তী ইসিকে চিঠি দিয়ে শাপলা, সাদা শাপলা ও লাল শাপলা চেয়ে আবেদন করে তারা।’ গত ৩০ সেপ্টেম্বর এনসিপিকে নিবন্ধন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। তবে প্রতীক বিষয়টি তখনো অমীমাংসিত রাখা হয়। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, শাপলা প্রতীক দিতে রাজি না হওয়া বেআইনি এবং স্বেচ্ছাচারী আচরণ।












Discussion about this post