এটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না যে বাংলাদেশে এমন একটি সরকার রয়েছে, যে সরকার সব দিক থেকে ব্যর্থ। কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়। এই সরকারের প্রধান ড. মহম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসীন হলেন কীভাবে? একটু তলিয়ে দেখা যাক।
আসলে ইউনূস ক্ষমতা দখল করেছে দেশি সন্ত্রাসী এবং বিদেশি অর্থ সাহায্যে। এই বিদেশি অর্থের তথ্য এতোদিন গোপন ছিল। সেটা এবার প্রকাশ্যে এল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জন ট্রাম্প গত ফেব্রুয়ারিতে তদারকি সরকারের বিরুদ্ধে বোমা ফাটিয়েছেন। হোয়াইট হাউজে গভর্নরদের একটি বৈঠকে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে ২৯ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুদান গিয়েছে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে যার নাম কেউ শোনেননি। এটা ভাবা যায়। একটা ছোট ফার্ম। আপনি এখান থেকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার নিয়েছেন, সেখান থেকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার নিয়েছেন। তারপরে আমেরিকা থেকে দেওয়া হয়েছে ২৯ মিলিয়ন ডলার। সেটা আবার এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে যে প্রতিষ্ঠানে কর্মীর সংখ্যা মাত্র দুই। তারা এখন নিশ্চই ধনী হওয়ায় খুশি হয়েছে।’ বিদ্রুপের সুরে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের খুব তাড়াতাড়ি কোনও বিখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে দেখা যাবে – মহাপ্রতারক হিসেবে।’
আসলে ইউনূস ক্ষমতা দখল করেছেন। জনগণের শক্তির ওপর ভর করে ক্ষমতায় তিনি আসীন হননি। ক্ষমতা দখলের পর তিনি ক্ষমতা বন্টন করেছেন তিনটি দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপিকে। ড. ইউনূসের ক্ষমতার আরও একটি উৎস রয়েছে। সেনাবাহিনীর একাংশ-প্রশাসন, সুবিধাভোগী শ্রেণির জোট আর বিদেশি প্রোপাগান্ডা নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশ এমন একটি শাসনের তলায় চলে গিয়েছে যে শাসনে দেশের কোনও উপকার হবে না, উপকার বা লাভবান হবে সুবিধাভোগীরা।
এবার একটি একটি করে আলোচনায় আসা যাক। প্রথমেই সেনাবাহিনী নিয়ে কথা। জুলাই অভ্যুত্থানের কথাই ধরা যাক। সব দেশের সেনাবাহিনীর হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে। বাংলাদেশ তার বাইরে নয়। সেনাবাহিনী চাইলে জুলাই অভ্যুত্থান রুখতে পারত। তারা সেটা করেনি। এর অর্থ সেনাবাহিনী সক্রিয় খেলোয়াড়ের ভূমিকা পালন করেছে। জেনারেল ওয়াকার উজ জামান মাঝে মধ্যে জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। যেমন কিছুদিন আগেই শোনা গিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না। সকলেই ধরে নিয়েছিলেন সেনাপ্রধান ইউনূস-বিরোধী। একেবারেই নয়। তিনি ইউনূসপন্থী। ইউনূস বিনিময়ে তাদের উপহার দিয়েছেন। সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের ক্ষমতার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর ঘুম ভাঙলে ইউনূসের ক্ষমতার ভরকেন্দ্র টলে যাবে।
ইউনূসের দ্বিতীয় খুঁটি সুবিধাভোগী শ্রেণির জোট। এই জোটে রয়েছেন নীতি জলাঞ্জলি দেওয়া আমলা, পুঁজিবাদী ব্যবসায়ী এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা-পুলিশকর্তা। এরা জনগণের শত্রু। এদের লক্ষ্য রাষ্ট্রকে নিজের সম্পত্তি হিসেবে তৈরি করা। এরা জানে, রাজনীতি জনগণ কেন্দ্রীক হলে তারা আর থাকতে পারবে না। ইউনূসের শাসন তাদের কাছে স্বর্গরাজ্য। কিছুদিন আগে মাহফুজ আলম একটি বিস্ফোরক বিবৃতি দিয়েছিলেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, কাড়াকাড়ি করে প্রশাসনে লোক নিয়োগ করেছে বিএনপি-জামায়াত।
তৃতীয় খুঁটি হল ইউনূসের লালিত-পালিত বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক প্রোপাগান্ডা নেটওয়ার্ক। এই বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় মিথ্যাচারকে রঙীন করেছে। তাদের কাজ জনগণকে বিভ্রান্ত করা। জুলাই অভ্যুত্থানকে রক্তাক্ত করে হাসিনাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post