ইউনুসপন্থী মিডিয়ার মুখে ঝামা ঘসে ভারত সফরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তার সম্ভাব্য দিল্লি সফরের খবর প্রকাশ করেছে ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য স্টেটসম্যান। অপর দিকে, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম bdnews24.comজানিয়েছে, চলতি মাসে জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ভারতে আসতে পারেন। ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা। এ ছাড়াও ১৪ অক্টোবর দিল্লিতে দু দিনের একটি সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। জেনারেল ওয়াকার উজজামান সেই সম্মেলনে যোগ দেবেন। বাংলাদেশের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কম-কে জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তাদের কাছে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের ভারত সফর নিয়ে তাদের কাছে কোনও খবর নেই। সফর চূড়ান্ত হলে তারা বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। তবে সেনাপ্রধান যে ভারতে আসছেন, সেটা প্রায় নিশ্চিত।
এখন কেন আসছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার ?
সরকারিভাবে ১৪ অক্টোবর দিল্লিতে দুদিনের সম্মেলনে সেনাপ্রধান ওয়াকারের যোগ দেওয়ার কর্মসূচি থাকলেও সব থেকে সফরের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভারতের স্থলসেনাকর্তা জেনারেল দ্বিবেদীর সঙ্গে তাঁর একান্ত বৈঠক। তাছাড়া সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির নিরিখেও সেনাপ্রধান ওয়াকারের দিল্লি সফর নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কেন গুরুত্বপূর্ণ সেটা এবার সবিস্তারে আলোচনা করা যাক।
প্রথম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সীমান্তে কাঁটাতারে বেড়া নিয়ে উত্তরপাড়ার আপত্তি। বাংলাদেশ সেনা দীর্ঘদিন ধরেই ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি পদ্মাপার অশান্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে সীমান্ত অতিক্রম করে অনুপ্রবেশের ঘটনাও উত্তরোত্তর বাড়ছে। এটা বললে অত্যুক্তি হবে না যে দুই দেশের সেনাপ্রধানের বৈঠকে এই নিয়ে আলোচনা হবে। উভয়েই একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল খাগড়াছড়ি। গত সপ্তাহে এক আদিবাসী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় এই পার্বত্য রাজ্য আচমকাই তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালাতে হয়। মৃত্যু হয় তিনজনের। তদারকি সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী পরিস্থিতির জন্য সাউথব্লককে দায়ী করেছেন। সাউথব্লক কড়া জবাব দিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ঢাকার অভিযোগ নস্যাৎ করে বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার ভাষায় এই ধরনের ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ খারিজ করছি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে চূড়ান্ত ব্যর্থ। তাই, সেই দায় অন্যের ওপর চাপানো তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এসব না করে বাংলাদেশ সরকার বরং আত্মনীরিক্ষণ করুক। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় কট্টরপন্থীরা যেভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিশানা বানিয়ে হিংসা, অগ্নিসংযোগ ও জমি দখলের ঘটনা ঘটিয়েছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করুক।’ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের এই জবাব উত্তরপাড়া ও যমুনার বাসিন্দাকে রীতিমতো চাপে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই তপ্ত বাতাবরণের মাঝে জেনারেল ওয়াকার দিল্লির জন্য ঢাকা থেকে উড়ান ধরবেন।
আর এসব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি। হাসিনা রয়েছেন ভারতের আশ্রয়ে। ওয়াকার-উজ জামান চেয়েছিলেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল দ্বিবেদীর সঙ্গে কথা বলতে। তার ইচ্ছা জলে ঢেলে দিয়েছে সাউথব্লক। দিল্লি থাকাকালীন তিনি আরও এক বার জেনারেল দ্বিবেদীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করবেন, তা বলাই বাহুল্য। আর কথা হলে যে হাসিনাকে নিয়েই হবে, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কথা হতে পারে মহম্মদ ইউনূসের সেফ প্যাসেজের কাঁদুনি নিয়েও। হাওয়া বলছে, চলতি অক্টোবরেই বাংলাদেশের রাজনীতি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post