ভারত তো বটেই, গোটা বিশ্ব জেনে গিয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাস, কূটনৈতিক মিশন, কূটনীতিকদের দফতর, তাদের সরকারি বাসভবন থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ছবি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রক। মন্ত্রকের এই নির্দেশে রাষ্ট্রপতি চুপ্পু যারপরনাই অসন্তুষ্ট। তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো তৌহিদ হোসেনকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে স্পষ্ট তাঁর বুকভরা আর্তনাদ।
রাষ্ট্রপতির এই চিঠিকে সাধারণ চিঠি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই ধরনের ঘটনা প্রথম ঘটল। যেখানে রাষ্ট্রপতি তাঁর অধস্তন এক সরকারি কর্তাকে চিঠি লিখে তাঁর ক্ষোভের কথা জানালেন। রাষ্ট্রপতির এই চিঠি তদারকি সরকারের প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিল। প্রশ্ন তুলে দিল সাংবিধানিক মর্যাদা নিয়েও।
কিন্তু যে প্রশ্নটা ঘোরাঘুরি করছে, তা হল ঘটনার পর প্রায় দেড় মাস বাদে কেন রাষ্ট্রপতি তাঁর প্রতিক্রিয়া জানালেন। ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ অগাস্ট। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে জারি করা হয়নি। সব কিছুই হয়েছে মুখে মুখে। সূত্রটি বলছে, কয়েক মাস ধরে জিরো পোর্ট্রেট নীতি বা কোনও ছবি না রাখার সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয়েছে। যদিও দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের কয়েকটি মিশন এই নির্দেশ পায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিকের বয়ান অনুসারে, ‘সদর দফতর থেকে কোনও লিখিত নির্দেশ ছিল না। তবে ইঙ্গিতটা বোঝা দরকার।’ ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশে তুমুল হৈচৈ শুরু হয়েছে। তদারকি সরকারের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন, ‘কতিপয় মানুষ তাদের নিজের উদ্যোগে সরকারি দফতরে রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি টাঙিয়ে রেখেছেন। কিন্তু তাদের ছবি সরিয়ে ফেলার জন্য কোনও লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়নি।’ সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, বিষয়টি নিয়ে অহেতুক জল ঘোলা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য তদারকি সরকারকে চাপে রাখা। তবুও প্রশ্ন উঠবে। তার কারণও রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ছবি যদি সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা তদারকি সরকার নিয়ে থাকলে তো হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরে পরেই ছবি সরিয়ে ফেলা যেত। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের এত মাস বাদে কেন রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর ছবি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল তদারকি সরকার?রুল অব বিজনেসে রাষ্ট্রপতির ছবি টাঙানোর সরাসরি কোনও বিধান নেই। তবে এটিকে একটি শিষ্টাচার হিসেবে দেখা হত। বঙ্গবন্ধুর ছবি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অন্য কোনও ছবি টাঙানোর কথা বলা হয়নি। তবে কূটনৈতিক দফতর বা দূতবাসে রাষ্ট্রপতির ছবি রাখাটা ছিল প্রথা। এতোদিন ধরে সেটাই হয়ে এসেছে। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া হয় তদারকি সরকার জিরো পোর্ট্রেট নীতি নিয়েছে, তাহলে রাষ্ট্রপতির ক্যাফেতে কেন সেই সময় সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়নি। এই দুই বিপরীতমুখী ঘটনা বিষয়টি আরও রহস্যময় করে তোলে।
গত জানুয়ারিতে তদারকি সরকার রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর প্রেস উইং বাতিল করেছে। রাষ্ট্রপতির কোনও ভাষণ বা ছবি তাঁর সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়নি। আসলে রাষ্ট্রপতি তাঁর ছবি সরিয়ে দেওয়া নিয়ে কোনও আক্ষেপ করেননি। তাঁর আক্ষেপ ছবি সরিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়ে। তাঁর আক্ষেপ পদের মর্যাদা নিয়ে। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছে যে কৌশলে তাঁর ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটা বকলমে তাঁকে অপদস্ত করা হয়েছে। আরও স্পষ্ট ভাষায় তদারকি সরকার তাকে সজ্ঞানে অপমান করেছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post