চলতি বছরের মে মাসেই বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি নেতৃবৃন্দ। এই দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সামনের তুমুল বিক্ষোভও দেখায় দলটি। ইসি পুর্নগঠন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবিতে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে এনসিপির নেতাকর্মীরা এমন বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন যে সেই সময় বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন কার্যালয়েই ঢুকতে পারেননি। মজার বিষয় হল, আজ পরিস্থিতি পুরোটাই পাল্টে গিয়েছে। প্রবল চাপে পড়া এনসিপি নেতাদের মুখের ভাষাই পাল্টে গিয়েছে। অপরদিকে, এনসিপির দাপটে একসময় কুঁকড়ে থাকা নির্বাচন কমিশন দলটিকে তাঁদের পছন্দসই প্রতীক দিতে নারাজ। যা নিয়ে এখন চলছে মুসলপর্ব।
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কাছে নতুন দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য প্রাথমিক পর্যালোচনায় বিবেচিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি তথা এনসিপি। ফলে তাঁদের একটি দলীয় প্রতীক নিতে হবে। সেই মতো বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন এনসিপিকে ৫০টি প্রতীক চিহ্ন পাঠিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ইসির জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিলে ১১৫টি প্রতীক সংরক্ষিত রয়েছে। সেখান থেকে বাছাই করতে লাউ, বেগুন, কলা, থালা, বাটি, বালতি খাট-সহ ৫০টি প্রতীকের তালিকা এনসিপির কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এনসিপি অনড় শাপলা প্রতীকের দাবিতে। ইসি বলছে, শাপলা তালিকায় না থাকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারছে না কমিশন।
জানা যাচ্ছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি ইসির কাছে যে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিল, তাতে প্রতীক হিসেবে পছন্দের ক্রমানুযায়ী শাপলা, কলম ও মোবাইল উল্লেখ করেছিল। পরবর্তী সময় দাবি পাল্টে কেবলমাত্র লাল বা সাদা শাপলা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৯(১) মোতাবেক রাজনৈতিক দলের প্রতীক কোনও প্রকার ‘শাপলা’ অন্তর্ভুক্ত নেই।
ফলে শুরু হয় চাপানউতোর। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের মতে, এনসিপি নেতৃত্ব নিজেদের এমন বাহুবলী মনে করেন, যে তাঁরা যেন সমস্ত নিয়ম-কানুনের উর্দ্ধ্বে। আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে ইসির বলে দেওয়া ৫০টি প্রতীক চিহ্নের মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে এনসিপিকে। কিন্তু পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে সংঘাত আসন্ন। কিন্তু এই মুহূর্তে এনসিপি প্রবল চাপে। এনসিপি নেতা সারজিস আলমের বক্তব্যে সেটা স্পষ্ট। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনও একটি পক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়েই আমাদের শাপলা দিতে অস্বীকার করছে। এমনকি তিনি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে স্বেচ্ছাচারি বলেও দেগে দেন।
কয়েকদিন আগেও যখন এই এনসিপি নেতাদের ভয়ে বাংলাদেশের সচিবালয় নড়াচড়া করতেও ভয় পেত, এখন তাঁরা অনেকটাই ভয়মুক্ত বলে জানা যাচ্ছে। যে নির্বাচন কমিশনার এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্যে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকতে পারেননি। তাঁরাই এখন এনসিপিকে বেগুন, থালা, বাটি ধরিয়ে দিতে বধ্যপরিকর কেন? সারজিস আলমের দাবি যদি সত্যি হয় তাহলে কারা নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করছে? তাহলে কি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্রনেতাদের আর কোনও ভূমিকা থাকবে না, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল।












Discussion about this post