পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান বন্দর করাচি। কিন্তু সেই জলপথ স্যার ক্রিকের মধ্য দিয়েই গিয়েছে। প্রায় ৯৬ কিলিমিটারের ওই জলরাশি ভারতের রান অফ কচ্ছ থেকে শুরু হয়ে আরব সাগরে মিলিত হয়েছে। ফলে করাচি বন্দরের একমাত্র প্রবেশ ও বাহির পথ এই স্যার ক্রিক। এই এলাকা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ সেই জন্মলগ্ন থেকেই। এবার এই স্যার ক্রিক নিয়েই ভয়ানক হুশিয়ারি দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল শুধু তিনি একা নন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভারতের বায়ুসেনা প্রধান ও স্থলসেনা প্রধানও পাকিস্তানকে হুমকি দিয়েছেন। তিনজনেরই বক্তব্য, পাকিস্তান সমঝে না চললে, ইতিহাস ভূগোল বদলে যাবে।
অপারেশন সিঁদুরের পর ভারতীয় সেনাবাহিনী ডজন ডজন উপগ্রহ চিত্র, লাইভ ভিডিও প্রমান হিসেবে দেখিয়েছে পাকিস্তানে কিভাবে তাঁরা ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল। পাশাপাশি বহু বিদেশী সংস্থা ও সংবাদমাধ্যম এমনকি পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়াতেও পাক সামরিক ও বিমানঘাঁটিগুলির ভগ্ন দশার বহু ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু পাক প্রধানমন্ত্রী সাহবাজ শরীফ বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বহুবার দাবি করেছেন পাকিস্তান নাকি যুদ্ধে জিতেছে। যদিও কোনও প্রমাণ দেওয়ার ব্যাপারে তাঁরা শতহস্ত দূরে। ফলে তাঁর দাবি নিয়ে মাথা ঘামায়নি বিশ্বের যাবতীয় মিডিয়া। এখন প্রশ্ন হল, আচমকা কেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সেনাপ্রধানরা স্যার ক্রিক নিয়ে হুমকি দিচ্ছেন? তাহলে কি এই এলাকায় কিছু ঘোট পাকাছে পাক সেনাবাহিনী? জানা যাচ্ছে, এই অঞ্চলে সৈন্য সমাহার করছে পাকিস্তান। এরপরই নড়েচড়ে বসে ভারত।
এমনিতেই অপারেশন সিঁদুরের সময় কেবলমাত্র ভারতের স্থল ও বায়ু সেনা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিল। ভারতের নৌবাহিনী তৈরি থাকলেও তাঁদের কাজে লাগানো হয়নি। সূত্রের খবর, অপারেশন সিঁদুরের দ্বিতীয় পর্বে নৌসেনাকে প্রথম সুযোগ দেওয়া হবে। এবং ভারতের প্রথম টার্গেট হবে করাচি। কারণ করাচি শুধু বন্দর নয়, এটা পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় নৌ ঘাঁটিও বটে। ফলে করাচিতে যদি ভারত হামলা চালায় তাহলে গোটা পাকিস্তানের কোমর ভেঙে যাবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার দশেরা উপলক্ষে গুজরাটের ভুজের কাছে ভারতীয় সেনাঘাঁটিতে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেখানে তিনি জওয়ানদের সঙ্গে দশেরা উদযাপনের পাশাপাশি ‘শস্ত্র পুজো’ও করেন। পরে ভাষণ দেওয়ার সময় পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “স্যার ক্রিক অঞ্চলে পাকিস্তানের কোনও আগ্রাসন দেখালে, তার কড়া জবাব দেবে ভারত। যার ফলে ইতিহাস-ভূগোল পর্যন্ত বদলে যেতে পারে।
অপরদিকে শুক্রবার রাজস্থানের অনুপগড়ে সেনাঘাঁটিতে বক্তব্য রাখছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তিনিও নিজের ভাষণে পরিষ্কার বলেন, ‘ভারতীয় বাহিনী এবার কোনও সংযম দেখাবে না। সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা বন্ধ করুন, নাহলে ভৌগলিক অস্তিত্বই হারিয়ে ফেলবেন।
পিছিয়ে ছিলেন না ভারতের বায়ুসেনা প্রধান অমরপ্রীত সিং। বায়ুসেনা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। সেখানেই তিনি দাবি করেন, সিঁদুর অভিযানে পাকিস্তানের অন্তত পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভারত ধ্বংস করেছে। তার মধ্যে রয়েছে আমেরিকার তৈরি এফ-১৬ বিমানও। তাঁর আরও দাবি, ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমের মাধ্যমে পাকিস্তানের মাটিতে ৩০০ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে আঘাত হেনেছিল ভারত। অর্থাৎ, এবার আরও ভিতরে ঢুকে আঘাত হানতে পারে ভারতীয় বায়ুসেনা। এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন ভারতের বায়ুসেনা প্রধান অমরপ্রীত সিং।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব শীঘ্রই ভারত অপারেশন সিঁদুর ২.০ শুরু করতে চলেছে। এমনিতেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরে একাধিক রাজ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বালোচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া, গিলগিট-বালতিস্তানে তো বিদ্রোহ চলছিলই, এবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরেও শুরু হয়েছে তুমুল বিদ্রোহ। ফলে পাক সেনাবাহিনী বহু জায়গা থেকেই মার খেয়ে পালিয়ে আসছে বলে জানা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্যার ক্রিক এলাকায় নতুন করে সৈন্য সমাহার শুরু করেছে পাকিস্তান। যা নিয়েই ভারতের তরফে সাবধানবানী শুনিয়ে দেওয়া হল। আর সেই সঙ্গে বার্তা দেওয়া হল বাংলাদেশকেও। কারণ, ভারতের পূর্ব সীমান্তেও বাংলাদেশ হুমকি দিচ্ছে ভারতকে। অপারেশন সিঁদুর ২.০ শুরু হলে, বাংলাদেশও টার্গেটে থাকতে পারে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post