নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যম জেটিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দাবি করেছিলেন, বর্তমানে ভারতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ভুয়া খবর ছড়ানো। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কোনো সহিংসতা হচ্ছে না। সহিংসতার অভিযোগ ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের দুর্গাপুজো নিরাপদ ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে যে ধরণের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল, তাকে এক কথায় বলা হয় নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি। অর্থাৎ, একই অঙ্গে কত রূপ দেখাচ্ছেন নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধদের উপর অত্যাচার ও নানান ধরণের অপরাধের হিসেব তুলে ধরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে সাবধান করেছিল ভারত। একবার নয়, একাধিকবার সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন নিয়ে সরব হয়েছে নয়া দিল্লি। কিন্তু ঢাকা বরাবরই তা খারিজ করে দিয়ে জানায়, সেখানে হিন্দুরা নিরাপদে আছে। এই পরিস্থিতিতে গত বছর দুর্গাপুজোর আগে ব্যপক আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। কোনও রকমে নমো নমো করে পুজো সেরেছিলেন পুজো কমিটিগুলি। আবার বহু পুজো কমিটি সেবার পুজো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন। এক বছর পরও যে পরিস্থিতি একটুও বদলায়নি, তার প্রমান পাওয়া গিয়েছিল দুর্গাপুজো শুরুর দশ-পনোরো দিন আগেই বাংলাদেশের একাধিক এলাকায় প্রতিমা ও মণ্ডপ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। যা নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে খানিকটা চাপে পড়েই আসরে নামে অন্তর্বর্তী সরকার। বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদে রাখতে প্রায় ২ লক্ষ নিরাপত্তাবাহিনী রাস্তায় নামানোর কথা ঘোষণা করে ইউনূসের সরকার। পাশাপাশি, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো থেকে শুরু করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগেরও সিদ্ধান্ত হয়। সবমিলিয়ে দুর্গাপুজোয় নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনির ব্যবস্থা করেছিল ইউনূস সরকার।
বাংলাদেশে এ বছর ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা মহানগরে পূজার সংখ্যা ২৫৮ টি। দশমীর দিন শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল আগের মতোই। কিন্তু এবারের দৃশ্যটা ছিল অনেকটাই আলাদা। সার দিয়ে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু চারপাশ কার্যত ঘিরে রেখেছিল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ছিল সেখানে। জানা গিয়েছে, দশমীতে বিসর্জনের শোভাযাত্রা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে গিয়ে ১৫ হাজারের বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে ঢাকার কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলি জানান, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে। কোনও গোলমাল বা নাশকতার ঘটনা ঘটেনি।
এখন প্রশ্ন হল, যদি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা যথেষ্ট নিরাপদেই থাকেন, তাঁদের সঙ্গে কোনও হিংস্যাত্মক ঘটনা নাই ঘটে থাকে তাহলে এত নিরাপত্তার আয়োজন কেন? কেনই বারবার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে দুর্গাপুজোয় গোলমাল বা নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল? সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে যে হিংস্যাত্মক ঘটনা ঘটেছিল, তাতেও পুজো পণ্ড হয়েছে ওই এলাকায়। ফলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যা দাবি করেছে, তাই কার্যত ভুয়ো। নিজেদের দোষ ঢাকতে ভারতের গণমাধ্যমকে দোষী সাব্যস্ত করতেই ব্যস্ত ঢাকা।












Discussion about this post