দিনে দিনে বাংলাদেশের রাজপথের দখল নিচ্ছে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। রাজধানী ঢাকা-সহ গোটা বাংলাদেশেই আওয়ামী লীগের মিছিলের বহর বাড়ছে, ক্রমশ দীর্ঘতর হচ্ছে মিছিলের পরিধি। এই পরিস্থিতিতে সব ধরণের উপায় ব্যবহার করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যাতে লীগের মিছিল আটকানো যায়। কিন্তু এবার বাংলাদেশের জনগণও রাস্তায় নামছেন। তাঁরাও অবাধে যোগ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের মিছিলে। আর সেই সমস্ত মিছিল থেকে স্লোগান উঠছে, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে-আসবে ফিরে নিজের দেশে, রাজপথ ছাড়ি নাই-শেখ হাসিনার ভয় নাই, আর নয় জুলাই জুলাই-এবার হবে গণধোলাই, ‘১-২-৩-৪ দেশ ছাড় রাজাকার।
অ্যাম্বিয়েন্স-সহ মিছিলের কিছু অংশ দেখাতে হবে
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মাটিতে হাসিনা বাহিনীর হুঙ্কার ও জনজোয়ার দেখে বোঝাই যাচ্ছে ইউনূসের সরকার এবং জামাত-এনসিপির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের কি ধরণের ক্ষোভের জন্ম হয়েছে। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে বাংলাদেশের হাল সবচেয়ে খারাপ। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের পর ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাজীপুরেই ছোট-বড় ১১৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর জেরে বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় ৮২ হাজার শ্রমিক। যে সব কারখানা বন্ধ হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হল, বেক্সিমকোর ১৩টি, শ্রীপুরের ডার্ড কম্পোজিট, টঙ্গীর খাঁ পাড়া এলাকার সিজন ড্রেসেস, কোনাবাড়ির পলিকন লিমিটেড, টেক্সটিল ফ্যাশন, স্ট্যান্ডার্ট সিরামিক, ক্ল্যাসিক ফ্যাশন, লা-মুনি অ্যাপারেলস, মিককিফ অ্যাপারেলসের মতো বিজিএমইএভুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়েছে দেশের অন্যতম বড় তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান লিজ অ্যাপারেলস লিমিটেড। কেবলমাত্র এই প্রতিষ্ঠানেই কর্মহীন হয়েছেন, ৮৩৫ জন নারী-সহ ২,৮৩৫ শ্রমিক-কর্মচারী। অন্যদিকে নতুন কোনও শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি না হওয়ায় বেকার শ্রমিকদের ৯০ শতাংশ এখনও কর্মহীন। অনেকে পেশা বদলও করেছেন বাধ্য হয়ে। কিন্তু সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কার্যত তিতিবিরক্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁরাই এখন ভিড় করছেন আওয়ামী লীগের মিছিলে।
রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শেখ হাসিনা বিগত ছয় মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে যে সমস্ত প্রচার করেছেন। আওয়ামী লীগ তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহার করে তথ্য ও প্রমান-সহ ইউনূসের আমলের দুর্দশা তুলে ধরেছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা নিজে বাংলাদেশের নির্যাতিত মানুষদের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁর দায়মুক্তি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের মধ্যেই নতুন করে সংগঠন তৈরি করে ফেলেছেন। প্রথম দিকে ১০-১৫ জনের ঝটিকা মিছিল বের হতো। কিন্তু এখন সেই মিছিলে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হচ্ছেন। এর কারণই হল ইউনূস ও তাঁর সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভ। তারই বহিপ্রকাশ এই স্লোগানে – আর নয় জুলাই জুলাই-এবার হবে গণধোলাই।












Discussion about this post