যে ভদ্রলোক বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছায় সেফ প্যাসেজ খুঁজছেন, সেই ইউনূস এখনও স্বপ্ন দেখছেন তাঁর সরকারের অধীনেই হবে বাংলাদেশে নির্বাচন। মানে তাঁর সরকার ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করাবেন। কেউ যদি একবার ওনার কানে কানে বলে আসেন, যে তাঁর অধীনে বাংলাদেশে ভোট হচ্ছে না। ভোট হবে একটি কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে। আর কেয়ারটেকার সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতা হাতে নেওয়ার আগেই ইউনূস সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে। আরও স্পষ্ট ভাষায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তার নীল নকশাও তৈরি। এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। ট্রাম্পের চোখে ইউনূস এখন একটা খলনায়ক ছাড়া কিছুই নয়। যে প্রত্যাশা তারা এই সরকার এবং সরকার প্রধানের থেকে আশা করেছিল, তাদের সে আশা পূরণ হয়নি।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণিয়ম জয়শঙ্করের মধ্যে কথা হয়েছে। সূত্রের খবর, ইউনূসকে নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা রুবিও জয়শঙ্করকে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি জয়শঙ্করকে এটাও বলেন, ইউনূস এবং তাঁর সরকারকে ট্রাম্প প্রশাসন আর কোনও গুরুত্বই দিচ্ছে না। তর্কের খাতিরে যদি এটা ধরে নেওয়া হয় যে জয়শঙ্করকে তিনি একথা বলেননি, তাহলে এই ছবিটার কথা তুলে ধরা যাক।
জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সভায় ভাষণ দিতে গিয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তার সঙ্গে গিয়েছিলেন ফিল্ড মার্শাল সৈয়জ আসিফ মুনীর। তাঁদের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। এই বৈঠক থেকে পরিষ্কার যে ট্রাম্প প্রশাসন আর ইউনূসকে সহ্য করতে পারছে না। ইউনূস কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার কম চেষ্টা করেনি। তার লবিং ফার্মও আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায়। কোনও চেষ্টাই কাজে আসেনি। ট্রাম্পের দফতর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় দিতে পারছেন না। সূত্রের খবর, জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সভার ফাঁকে মার্কো রুবিও এবং জয়শঙ্করের মধ্যে কথা হয়। রুবিও জয়শঙ্করকে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক বাতাবরণ ফেরাতে তারা ভারতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। এই বিষয়ে আমেরিকার অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন চেয়েছে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। সব দলকে ভোটে অংশ নিতে দিতে হবে। সব দল যাতে প্রার্থী দিতে পারে, সেটাও তদারকি সরকারেক নিশ্চিত করতে হবে।
আর তদারকি সরকার করেছে ঠিক উল্টো। হাসিনার ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারা যাতে প্রার্থী দিতে না পারে, তার পাকাপাকি ব্যবস্থা করেছে। ওয়াশিংটনের এই দাবি আজকের নয়, হাসিনা সরকারের আমলেও তারা জোরের সঙ্গে এই দাবি জানিয়ে এসেছে। আমেরিকা সুস্থ গণতন্ত্রের পক্ষে। বিশ্বের কোনও প্রান্তে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটলে আমেরিকা অতীতেও সরব হয়েছে। আগামীদিনেও সরব হবে।
যদিও আমেরিকা একসময় চেয়েছিল হাসিনা-বিহীন নির্বাচন। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে আমেরিকার মত একটি শক্তিধর দেশও তাদের সিদ্ধান্ত থেকে কার্যত ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যায়। সেই চাপটা এখন ইউনূসের ওপর পড়েছে। সেটা এতটাই যে ইউনূস এখন পালাতে পারলে বাঁচেন। বাঁচতে পারেন কি না, সেটা অবশ্য সময় বলবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post