জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম একটি বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। তিনি উপদেষ্টা পরিষদের একাংশকে বিশ্বাসঘাতক বলেছেন। এমনকি তাদের নাম প্রকাশের হুশিয়ারি পর্যন্ত দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাহিদ বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের অনেককে বিশ্বাস করাটা ছিল ভুল। তাদের আস্থায় রেখে প্রতারিত হয়েছেন তিনি এবং তার সহ যোদ্ধারা। নাহিদ ইসলাম বলেন, কিছু উপদেষ্টা আমাদের আস্থার প্রতিদান দেননি। তাদের কারণে অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। খুব শীঘ্রই আমি তাদের নাম প্রকাশ করব। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি উপদেষ্টা পরিষদে ভাঙন ধরছে? এইবার কি তবে ইউনূসের পালা?
প্রসঙ্গত, গত বছর ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ই আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে তদারকি সরকার গঠিত হয়। তারপরই নাহিদ ইসলামকে তথ্য এবং সম্প্রচার উপদেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পরবর্তীকালে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করেন। এবং তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন। বর্তমানে তিনি সেই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এদিকে নাহিদ ইসলামের পদত্যাগের পর তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন মাহফুজ আলম। যিনি প্রথম থেকেই অনেক বেশি চর্চিত। তার বক্তব্য, কার্যক্রম অনেক বেশি বিতর্ক করে তুলেছে বাংলাদেশে। তবে কি নাহিদ এই দুই উপদেষ্টার কথা বললেন? নাকি অন্য কোনও উপদেষ্টাদের নাম রয়েছে? আসলে নাহিদের নিশানায় কে?
ছাত্রদের উপদেষ্টা পদে বসানো ভুল হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ছাত্ররা উপদেষ্টা না হলে সরকার থাকতো না। তিন মাসও টিকতো না। এর পাশাপাশি তিনি স্বীকার করেন, কয়েকজন উপদেষ্টাকে ভরসা করা ছিল ভুল। ঠিক কি বলেছেন তিনি শুনুন..
তিনি অভিযোগ আনেন, অনেক উপদেষ্টা ইতিমধ্যেই সেফ এক্সিট বা নিরাপদ প্রস্থানের পরিকল্পনা করে রেখেছেন। এমনকি বহু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। অর্থাৎ নাহিদ বলতে চাইছেন, উপদেষ্টা পদে থেকে কয়েকজন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি পূরণ করেছেন। পাশাপাশি তারা দেশকে বিপদে ফেলে রেখে সময় মতো অ্য রাজনৈতিক দলকে ধরে পালিয়ে যাবেন। নাহিদের অভিযোগকে এমনভাবেই বিশ্লেষণ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে এখন দেখার, তার এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া আসে কিনা!












Discussion about this post