শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ফের একবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত। গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। বছর পার হয়েছে। এখনও ভারতে রয়েছেন শেখ হাসিনা। বারেবারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে নয়া দিল্লিতে চিঠি এসেছে হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে। কিন্তু ভারত সরাসরি উত্তর দেয়নি। তবে নিজেদের অবস্থান এর আগেও বুঝিয়ে ছিল নয়া দিল্লি। ফের নয়া দিল্লি থেকে এল বার্তা। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত। এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। সোমবার এমনটাই জানিয়েছে ভারতের বিদেশসচিব। এমনকি এটির সঙ্গে বিচার বিভাগ ও আইনি প্রক্রিয়া জড়িয়ে রয়েছে বলেও মনে করিয়ে দেয় নয়া দিল্লি।
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি লিখেছে। এই বিষয়ে ভারতের বিদেশসচিবকে প্রশ্ন করা হলে বিক্রম মিশ্রী জানান, এই বিষয়টির সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া জড়িয়ে রয়েছে। এটি নিয়ে দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। তিনি জানান, এটি একটি বিচার বিভাগীয় ও আইনি প্রক্রিয়া। এর জন্য দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা এবং পরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি এবং এই বিষয়গুলিকে নিয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতেও তৈরি। এর বাইরে এই বিষয়টিকে নিয়ে আর কোনও মন্তব্য করা গঠনমূলক বলে মনে করি না।
সোমবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ থেকে আসা সাংবাদিকদের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করেন বিক্রম মিশ্রী। তাদের সঙ্গে আলাপচারিতা ও প্রশ্ন-উত্তর পর্বে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয় যেমন উঠে আসে, একইভাবে উঠে আসে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়। এমনকি বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। কারণ আগামী ফেব্রুয়ারিতে ওপার বাংলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ভারতের বিদেশসচিব স্পষ্ট করে দেন, সাধারণ মানুষের দ্বারা নির্বাচিত যে কোনও সরকারের সঙ্গে কাজ করতে রাজি ভারত সরকার। বিক্রম মিশ্রী জানান, বাংলাদেশে সুষ্ঠ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। এটাই চায় ভারত। নির্বাচনে যাতে প্রত্যেকে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেটাই চায় ভারত সরকার। বিক্রিম মিশ্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার নিজে থেকে নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেছে, এটা ভালো লেগেছে। নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত বছর ৫ই অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শুধু তাই নয়, সম্পর্কের অবনতির জেরে দুই দেশের বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ে। তবে বিক্রম মিশ্রী স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশের কিছু অভ্যন্তরীন সিদ্ধান্তের জেরেই বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে প্রভাব পড়েছে। তবে তিনি একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি ও তিস্তা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার বসার জন্য প্রস্তুত ভারত। উল্লেখ্য, এই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারত সফরে আসছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সন্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। সবমিলিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি হয় নাকি অন্য দিকে মোড়, সেটাই দেখার।












Discussion about this post