বাংলাদেশের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব কি বদলে গিয়েছে? এই ব্যাপারে এখনও দ্বিধাবিভক্ত কূটনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহল। একটি দল মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। এর আগে এমনটি দেখা যায়নি। অন্য একটি দল মনে করছেন, বাংলাদেশের প্রতি ক্রমশ আস্থা হারাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সম্প্রতি ১০৪ জনের বিশাল বহর নিয়ে নিউইয়র্কে জাতি সংঘের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। এতে বাংলাদেশ সরকারের নাকি খরচ হয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। প্রায় এগারো দিন তিনি মার্কিন মুলূকে ছিলেন, কিন্তু একবারও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে পারলেন না। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেননি। ট্রাম্প দম্পতির সঙ্গে ইউনূসের একটি ছবি যদিও প্রকাশ করা হয়েছে, সেটা নিয়েও বিস্তর জলঘোলা চলছে। এরকমই সেটা নিয়েও বিস্তর জলঘোলা চলছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় এলে কী হবে, এ নিয়ে বাংলাদেশের উপদেষ্টামণ্ডলী সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে ছিল। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প মুহাম্মদ ইউনূসকে একদম পছন্দ করেন না। কারণ হিলারি ক্লিনটন ইউনূসের বন্ধু। আবার নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের সখ্যতা বেশি। ফলে ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের জন্য কি বিপদ ঘটান, সেটা ভেবেই অস্থির হয়েছিলেন বাংলাদেশের উপদেষ্টারা। কিন্তু আদতে ক্ষমতায় আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশকে তেমন কোনও চাপ দেননি। উল্টে বন্ধু নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেই পা বাড়িয়ে ঝগড়া করে চলেছেন তিনি। ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর পাশাপাশি এইচওয়ান-বি ভিসার নতুন নীতি চাপে ফেলেছে নয়া দিল্লিকে। অন্যদিকে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার অভিযোগে কেবলমাত্র ভারতকেই শাস্তি দেওয়ার তোড়জোড়, বন্দরে নিষেধাজ্ঞা চাপানো থেকে শুরু করে ভারত-পাক যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব নিয়ে লাগাতার মিথ্যাচার করে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, বাংলাদেশে মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনীর ঘনঘন উপস্থিতি একটা অন্য বার্তা দিচ্ছে ভারতকে। উল্টোদিকে বাংলাদেশ সে রকম কোনও চাপে নেই। বরং মুহাম্মদ মনে করা হচ্ছে ইউনূসের সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীরব সমর্থন পাচ্ছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের ওপর আর ভরসা রাখতে পারছে না ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এর মূল কারণ, ভারতের রাশিয়া প্রীতি। এই কারণেই দক্ষিণ এশিয়ায় এক বিশ্বস্ত বন্ধু খুঁজছে ওয়াশিংটন। এই সুযোগে বাংলাদেশ এই সিগন্যালটাই দিয়েছে যে আমরাই হব তোমাদের প্রকৃত বন্ধু। এর জন্য মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কক্সবাজার বা সেন্ট মার্টিনে একটি সামরিক বেস পর্যন্ত দিতে রাজি। কিন্তু এটা করতে গিয়ে, বাংলাদেশ চিনের মতো বন্ধুও হারালো বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে এবার একজোট হয়ে গিয়েছে বিশ্বের তিন মহাশক্তিধর দেশ ভারত-চিন-রাশিয়া। অন্যদিকে এই মুহূর্তে প্রবল চাপে মার্কিন প্রশাসন। তাঁদের অর্থনীতি ডুবতে বসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও চিনের সাথে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেলে মার্কিন অর্থনীতি প্রশান্ত মহাসাগরের জলে ডুবে যাবে। এটা ভালোই উপলব্ধি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাই সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘের অধিবেশনে কোনও মার্কিন পদাধিকারী মুহাম্মদ ইউনূস বা তাঁর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেননি। কার্যত বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের দূরে ঠেলে রেখেছিলেন। শত চেষ্টা করেও বাংলাদেশের কোনও প্রতিনিধি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি বলেই সুত্রের খবর। তাই কোনও বৈঠকের আয়োজন করা যায়নি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, চাপে পড়ে এবার বাংলাদেশ পলিসি পরিবর্তন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর সরাসরি প্রভাব খুব শীঘ্রই টের পাবেন মুহাম্মদ ইউনূস।












Discussion about this post