ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না – এই বহুশ্রুত প্রবাদের কথা হয়তো ইউনূস শোনেননি। অথবা শুনে থাকলেও গদির লোভে সেই প্রবাদকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। আর এখন বুঝতে পারছেন, কি ভুল করেছেন। এক হাসিনাকে নিয়ে ক্রমশই তাঁর ওপর চাপ বাড়ছে। সেই চাপ সামলাতে তাঁর ল্যাজে গোবরে অবস্থা। তার ওপর নির্বাচনের ঘোষণা করে আরও ফ্যাসাদে পডে়ছেন। যদিও ভোট ঘোষণা ছাড়া তার আর দ্বিতীয় কোনও রাস্তা ছিল না। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা হয়নি। তদারকি সরকার প্রধান শুধু বলেছেন, ভোট হবে ফেব্রুয়ারিতে। আর এই ঘোষণার জেরে তার ওপর নানা প্রান্ত থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
ভারত জানিয়ে দিয়েছে, আওয়ামী লীগ-হীন নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। এবার ভারতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই কথা বলছে জাতিসঙ্ঘ। ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসঙ্ঘের রেসিডেন্ট কোঅর্ডিনেটর গোয়েন লুইস বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে বলে তিনি আশা করছেন। গত রবিবার লুইস বিএনপি রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘মিট দ্য প্রেস’ –য়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এক প্রশ্নের উত্তরে লুইস বলেন, ‘বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসঙ্ঘ সব ধরনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেবে। আমি আশা করছি নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে।’ সাংবাদিক সম্মেলনের আগে তিনি বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি নেতা মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘গোয়েন লুইসের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সবিস্তার আলোচনা হয়েছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। দেশবাসীর একটাই দাবি, দ্রুত নির্বাচন। লুইসের সঙ্গে বৈঠকে আমরা আলোচনা করেছি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট কীভাবে সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করা যায়।’
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,‘জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের পক্ষে গোয়েন লুইসের অবদানকে বিএনপি স্বীকৃতি দিতে চায়। অত্যন্ত কঠিন সময় জাতিসঙ্ঘের তরফে তাঁর যে ভূমিকা ছিল এর জন্য তার প্রতি কতৃজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। তিনি জাতিসঙ্ঘের চার্টার অনুযায়ী প্রত্যেকটি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, সাংবিধানিক অধিকার এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।’
শুধু জাতিসঙ্ঘ নয়, ভারতও বাংলাদেশকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে চাপ দিচ্ছে। সাউথব্লক জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। কিন্তু তারা সেই নির্বাচনকেই স্বীকৃতি দেবে, যে নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে। সব দল প্রার্থী দিতে পারবে।
ভোট নিয়ে ইউনূসের ওপর চাপ ছিল। সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন জাতিসঙ্ঘের ঢাকার রেসিডেন্ট কোঅর্ডিনেটর। প্রথমত তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে। এই পদক্ষেপ অত্যন্ত হিসেবি পদক্ষেপ। কারণ, বিএনপির সঙ্গে কিন্তু তদারকি সরকারের ঠাণ্ডা লড়াই চলছে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাংলাদেশের আসন্ন ভোট নিয়ে এই প্রথম জাতিসঙ্ঘ মুখ খুলল। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। মানে আওয়ামী লীগ নয়, কোনও রাজনৈতিক দলের ওপর আর তিনি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিতে পারবেন না। ফলে, ইউনূসের ফাঁকা মাঠে গোল করে বেরিয়ে যাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল। ইউনূসে সামনে এখন একটাই রাস্তা খোলা সুবোধ বালক গোপালের ভূমিকায় নেমে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করা।












Discussion about this post