গোরু পাচার রুখতে গিয়ে মৃত্যু হল ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর এক জওয়ানের। মৃতের নাম কপিল দেব সিং (৫৯)। ঘটনাটি ঘটে গত ৪ অক্টোবর। বিএসএফের আগ্রা সীমান্ত ফাঁড়ির কাছে একটি অভিযানের তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। বাহিনী সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, বিএসএফের ৮৮ নম্বর ব্যাটিলিয়ন গোরু পাচারকারীদের ওপর নজর রাখছিলেন। পাচারকারীরা ওপারে মোষ পাচার করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দেখে তারা শূন্যে তিন রাউন্ড গুলি চালায়। ইন্সপেক্টর সিং পাচারকারীদের তাড়া করতে গিয়ে পা ফসকে জলাভূমিতে পড়ে যান। পাচারকারীরা তাকে দা দিয়ে আঘাত করে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিতৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আগ্রা সংবাদের শিরোনামে এর আগেও উঠেছে। চোরাচালান থেকে শুরু করে মাদক পাচার, গোরু-মোষ পাচার লেগেই রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে অনুপ্রবেশের সমস্যা, বিজিবির সঙ্গে মাঝে-মধ্যেই সংঘাত, কাটাতারকে কেন্দ্র করে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে গেল বিএসএফ জওয়ানের মৃত্যু।
এই ঘটনা বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উসকে দিচ্ছে – কাদের প্ররোচনায় এই সব চলছে? এদের পিছনে কাদের সমর্থন রয়েছে? ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। জওয়ানদের নিরাপত্তা যদি প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে দেশবাসীর নিরাপত্তা কী হবে। কারা এদের সাহায্য করছে। বিএসএফ পুরো ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযানের সময় মানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না (স্ট্যান্ডার্ড অপারেশেন প্রসিডিউর বা এসওপি) , জলাভূমিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অঞ্চলে অ-প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে পাহাড়া দেওয়া কিন্তু বিএসএফকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
সীমান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতার অঞ্চল। মালদার ওই আগ্রা প্রথম থেকে স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। এরকম একটি স্পর্শকাতর এলাকায় কী করে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা অপ্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে পাহাড়া দেয়, সেই প্রশ্ন কোনওভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আর গত এক বছর ধরে সীমান্তের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের দিকে নজর রাখলে দেখা যাবে, ভারত ভূখণ্ডকে নানাভাবে অস্থির করে তোলার চেষ্টা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রতিরক্ষা দফতর থেকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন থেকে চারটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনার ক্ষমতা এখন আর ওয়াকার উজ জামানের হাতে নেই। চলে গিয়েছে জামাতের হাতে। তাই বাহিনীর সদস্যদের মগজ ধোলাই করে তাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারত-বিরোধিতা। তাই, বাংলাদেশ সেনা মাঝে-মধ্যেই ভারতকে হুঙ্কার দেয়। এমনকী কাটাতার দেওয়া যাবে না বলেও ভারতকে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আসলে বাংলাদেশ সেনার মধ্যে জামাতপন্থী সদস্যদের ভিড় বেড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, ওয়াকার উজ জামান প্রথম দিকে বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে জামায়াতের সদস্যরা সেই নিয়ন্ত্রণ তার হাত থেকে কেড়ে নেয়। এর ফলশ্রুতি হিসবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সেনা ক্রমেই ভারত বিরোধী হয়ে উঠেছে। আর তাদের মদত দিচ্ছে পাকিস্তান। এটা এখন আর গোপন নয়, পুরোপুরি ওপেন সিক্রেট।
বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছে পাকিস্তান সেনার এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সরকারিভাবে এই সফরকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হলেও সফর একেবারেই সৌজন্য নয়। দিল্লিকে চাপ রাখার কূটনৈতিক কৌশল। দিল্লি সেই চাপের কাছে নতিস্বীকার করে কি না, সেটাই দেখার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post