কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হয়েছেন এক শিক্ষক। ধৃতের নাম মহম্মদ ইউসুফ কাটারি। বয়স মাত্র ২৬ বছর। গত অগাস্টে ভূস্বর্গে অপারেশন মহাদেব চালায় কাশ্মীর পুলিশ ও সেনার যৌথবাহিনী। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। ওই অস্ত্রের সূত্র ধরেই মহম্মদ ইউসুফ কাটারিয়াকে গোয়েন্দারা চিহ্নিত করে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, কাটারিয়া চুক্তিভিত্তিক কর্মী। সেই সঙ্গে তিনি স্থানীয় শিশুদের পড়াতেন। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগে সন্ত্রাসবাদীদের সংস্পর্শে আসেন ওই তরুণ। এরপরেই তাদের আন্দোলনে সাহায্য করা শুরু করে। শিক্ষকতা পেশা হওয়ায় তাকে কেউ খুব একটা সন্দেহ করত না। কিন্তু অপারেশন মহাদেব বাহিনী সব জালজোচ্চুরি ফাঁস করে দেয়। সেনাবাহিনীর দাবি, জেরায় কাটারিয়া স্বীকার করে নিয়েছে, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে থাকি তিন লেট জঙ্গি সুলেমান ওরফে আসিফ, জিবরান এবং হামজা আফগানির সঙ্গে দেখা করে। একবার নয়, চারবার। তাদের লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে আসছিল এই কাটারিয়া।
২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে হামলা চালায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। হামলায় মৃত্যু হয় ২৬ জনের। ওই ঘটনার পর থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি হয়। ৭ মে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা। হয়েছেন অপারেশন সিঁদুর। এই সাঁড়াশি অভিযানের জেরে ধ্বংস হয় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নটি জঙ্গি ঘাঁটি। এর পরেই দুই দেশের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। চারদিন পর সেই সংঘর্ষ বিরতি হলেও চাপা উত্তেজনা এখনও রয়েছে। পরিস্থিতি আরও বদলে গিয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পাকিস্তান সেনা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।
মহম্মদ ইউসুফ কাটারিয়া সম্পর্কে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। লস্কর-ই-তৈবা তাকে ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার হিসেবে দেখত। ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার বলতে বোঝায় তাকে, যে স্থানীয় বাসিন্দা জঙ্গিদের সাহায্য করবে। ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারের ওপর জঙ্গিরা অনেকটাই নির্ভরশীল। কারণ, একমাত্র তারাই জানে অস্ত্র কোথায় লুকিয়ে রাখলে কারও নজরে পড়বে না, কোন পথে অস্ত্র পাচার করা সহজ হবে, কাজ শেষ হওয়ার পর অস্ত্রের ভবিষ্যত কী হবে, কোন পথ দিয়ে গেলে নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়ানো যাবে। এ দেশে থাকতে গেলে যে সব নথি দরকার, একমাত্র ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারেরাই সেই সব নথি জাল করে এদের হাতে তুলে দেয়। সেই সব নথি সাধারণ চোখে দেখলে একেবারেই জাল মনে হবে না। ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জঙ্গিরা হামলার নীল নকসা তৈরি করে। মহম্মদ ইউসুফ কাটারিয়া ছিল সেই ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার।
তার গ্রেফতারি থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে দেশের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা এদেশে থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পরেও শত্রু দেশের হয়ে মীরজাফরের কাজ করে। আর শত্রু দেশও খোঁজে সেই সব লোকদের যাদের কেউ কোনওদিন সন্দেহ করতে পারবে না। অভিযান শেষ হলে তারা নিশ্চিন্তে তাদের ঠিকানায় ফিরে যাবে। আজ যারা পাকিস্তানের হয়ে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, তারা বুঝতে পারছে না পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা শুধুমাত্র তাদের ভারত-বিরোধী নাশকতামূলক কাজের জন্য ব্যবহার করছে। কাজ হয়ে গেলে তারা আর তাদের সাহায্যকারীর কথা মনে রাখবে না। এটা জেনেই অভিযান শেষে গ্রাউন্ড ওয়ার্কারের ভবিষ্যত আর কোনওভাবেই সুরক্ষিত থাকবে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post