পার্বত্য চট্টগ্রামের পর এবার নোয়াখালী। বাংলাদেশের আরেকটি জেলাতেও এবার আলাদা রাষ্ট্রের দাবি উঠল। যা নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরে চলছে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ কর্মসূচি। নোয়াখালীর বাসিন্দাদের একটাই স্লোগান, “দাবি আমাদের একটাই, নোয়াখালী বিভাগ চাই”। উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্যতম ছাত্র উপদেষ্টা সজীব মাহমুদ ভূঁইয়া কুমিল্লাকে আলাদা বিভাগ করার কথা বলেছিলেন। যাতে নোয়াখালীকেও যুক্ত করার প্রস্তাব ছিল। এই প্রস্তাব সামনে আসার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে কুমিল্লা নামে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, কুমিল্লার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দুই মহা প্রতাপশালী ছাত্র নেতার মনোভাব সামনে আসতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে নোয়াখালীবাসী। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে, আলাদা বিভাগের দাবি মানা না হলে নোয়াখালী বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে এসে আলাদা রাষ্ট্র বা ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ারও হুমকি দিয়েছেন কেউ কেউ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে চলছে জোর তরজা।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, নোয়াখালী জেলাকে আলাদা বিভাগ করার দাবিতে সরব হয়েছেন ওই জেলার বাসিন্দারা। হেশ কিছুদিন ধরেই নোয়াখালীর নানা উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার তা কেন্দ্রীয় স্তরে একত্রিত হতে শুরু করেছে। সম্প্রতি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌরাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং একটি কেন্দ্রীয় সমাবেশ হয়েছে। সেখানে বেগমগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় জড়ো হন। এ সময় তাঁরা স্লোগান দেন, ‘দাবি মোদের একটাই, নোয়াখালী বিভাগ চাই’।
বর্তমানে নোয়াখালী জেলা চট্টগ্রাম বিভাগের অধীনে রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী জেলা নোয়াখালী। ফলে এটি বাংলাদেশের একটি ‘এ’ শ্রেণীভুক্ত জেলা। কিন্তু এই জেলাই বাংলাদেশের একমাত্র যেখানে জেলার নামে কোনও শহর নেই। আর বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। উত্তরে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলা, দক্ষিণে মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগর। পূর্বে চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলা এবং পশ্চিমে লক্ষ্মীপুর ও ভোলা জেলা। মোট ৯টি উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী জেলা। দাবি উঠছে, নোয়াখালীর সঙ্গে লক্ষ্ণীপুর, ফেনী ও আশেপাশের কয়েকটি জেলার অংশ নিয়ে আলাদা নোয়াখালী বিভাগ গঠন করতে হবে। তাঁরা কুমিল্লা বিভাগ কোনও মতেই মেনে নিতে নারাজ। এমনকি এই দাবি মানা না হলে আলাদা রাষ্ট্রের কথাও ভাবতে পারে তাঁরা, এই দাবিই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
অপরদিকে কুমিল্লার এক বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, নোয়াখালী যদি আলাদা বিভাগ হয়, তাহলে কুমিল্লার বাসিন্দারা যদি একবার নোয়াখালীর বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তাঁদের না খেয়ে মরতে হবে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশে যে ধীরে ধীরে গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে এটা হল তার উদাহরণ। এখনও সাধারণ নির্বাচন হল না গণঅভ্যুত্থানের পর। আর সেই নির্বাচন পিছিয়ে দিতে এনসিপির ছাত্রনেতারা বাংলাদেশের একেকটি জেলা, ও বিভাগের মধ্যে বিরোধ বাঁধিয়ে দিচ্ছেন। যেমন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি সরাসরি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরুদ্ধ করার হুমকি দিয়ে কুমিল্লা বিভাগের দাবি তুলে দিয়েছিলেন সপ্তাহ দুয়েক আগে।
ফলে বোঝাই যাচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতোই কেন নোয়াখালীবাসীরাও এখন আলাদা বিভাগের দাবি তুলছেন। আর এই দাবি না মানা হলে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার হুমকিও দিচ্ছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দারা যেমন সরাসরি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছেন, তেমনই চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা নোয়াখালীও প্রায় একই দাবি তুলছেন। বাংলাদেশ কি তবে টুকরো হওয়ার দোরগোড়ায়?












Discussion about this post