হাসিনা কি প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়েছেন? যদি দিয়ে থাকেন, তাহলে কার কাছে রয়েছে তাঁর ইস্তফাপত্র? একটি গণতান্ত্রিক দেশের নিয়ম অনুসারে, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। সে হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়োগ করেছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তাই, হাসিনা তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ালে তাঁর ইস্তফাপত্র থাকার কথা রাষ্ট্রপতির কাছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতির কাছে হাসিনার কোনও ইস্তফাপত্র নেই। তাহলে কি গণভবন ছাড়ার আগে তিনি সেখানে তাঁর ইস্তফাপত্র রেখে এসেছিলেন? সেটা যদি করে থাকেন, তাহলে সেখান থেকে হাসিনার চলে যাওয়ার পর বঙ্গভবনে নির্বিবাদে হয়েছে লুঠপাঠ। অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। সুতরাং, বঙ্গভবনে হাসিনা তাঁর ইস্তফাপত্র রেখে দিলেও তার অস্তিত্ব নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে। তাহলে বিষয়টা দাঁড়ায় যে হাসিনা এখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বৈধ প্রধানমন্ত্রী।
হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়া নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাসিনা দেশ ছেড়েছেন প্রোটোকল মেনেই। সেই প্রোটোকল হল তিনি বাংলাদেশ ছেড়েছেন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে। বঙ্গভবন থেকে সেনাবাহিনীর সাহায্যে তিনি বিমানবন্দর পৌঁছান। বাহিনী তাকে হেলিকপ্টারে তুলে দিয়েছে। সেই হেলিকপ্টার দিল্লি অবতরণ করলে প্রোটোকল মেনেই সাউথব্লক তাকে গ্রহণ করেছে। সুতরাং, হাসিনা ‘পালিয়ে’ গিয়েছে, সেটা কোনওভাবেই বলা যায় না। ভারত সরকারও তাকে গ্রহণ করেছে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। ইংরেজি তর্জমা করলে দাঁড়ায় প্রাইম মিনিস্টার অন এগজাইল।
এর মধ্যে খবর এসেছে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাউথব্লক। তবে সরকারিভাবে এই নিয়ে কোনও বিবৃতি জারি করা হয়নি। অন্যদিকে, হাসিনা চাইছে দ্রুত দেশে ফিরতে। তাঁর ইচ্ছা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। কিন্তু সেটা আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। অতীতে ১/১১-য়ের সময় হাসিনা ছিলেন দেশের বাইরে, কানাডায়। সেখান থেকে তিনি প্রথমে ইংল্যান্ড আসেন। সেখান থেকে বাংলাদেশে। বিমানবন্দরে অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। হাসিনার জন্য ১/১১-য়ের সরকার সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল। কোনও বিমানসংস্থা যাতে হাসিনাকে বোর্ডিং পাশ না দেয়, তার পাকা ব্যবস্থা করে রাখে। এত বাধার পরেও কিন্তু হাসিনা বাংলাদেশে পৌঁছান। তারপর তাঁকে কম হেনস্তা হতে হয়নি। তাকে টেনে হিঁচডে ঢাকা কোর্টে তোলা হয়। তিনি তাঁর মোকাবিলা করেন। কিন্তু এই ঘটনার জন্য হাসিনা বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত বোধ করেননি। যে পুলিশকর্তা বা পুলিশকর্মীরা তাকে সুধাভবন থেকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে পেশ করে, সেই সব পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে তিনি কোনও পদক্ষেপ করেননি। কিন্তু তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। কারণ, বিএনপি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী। এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে হাসিনা ক্ষমতায় এলে বিএনপির বিরুদ্ধে স্টিম রোলার চালাবেন। স্টিম রোলার চালাবেন জামাতের বিরুদ্ধে। ১/১১- তে যাঁরা সরকারে ছিলেন, তাঁদের অনেককেই হাসিনা সেফ এগজিট দিয়েছিলেন। এরশাদের মতো একজন স্বৈরাচারীর জন্য নিরাপদে চলে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করে দেন।
ইতিমধ্যে হাসিনার বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারকের বেঞ্চ। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে এই ভিডিও শেখ হাসিনার দিল্লিতে তোলা। এটি নাকি সম্প্রতি দিল্লিতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের দৃশ্য। যদিও বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্রের দাবি অনুসারে, ভিডিওটি ২০১৮ সালের পুরোনো ফুটেজ।












Discussion about this post