সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবনে একটি জরুরী বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রামমোহন নাইডু। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, এবং তিন বাহিনীর প্রধান। এই বৈঠক পূর্বনির্ধারিত ছিল না। এই বৈঠক হয়েছে একেবারে গোপনে। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন অনুসারে, অস্থির বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবনে এই জরুরী বৈঠক ডাকেন। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী রুটিন বৈঠক করে থাকেন, যে বৈঠকে নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরী মন্ত্রকের প্রধানরা হাজির থাকেন। কিন্তু লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রীর হাজিরা ঘিরে কৌতুহলের পারদ তুঙ্গে ওঠে। কারণ, রুটিন বৈঠকে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রীকে সচরাচর ডাকা হয় না। উল্লেখ করা যেতে পারে, করোনা কালে যখন সংক্রমণের গ্রাফ ক্রমশ উর্ধ্বমুখী সেই সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবনে একটি বৈঠক ডেকেছিলেন। সেই বৈঠকে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রীকে ডাকা হয়েছিল। ওই বৈঠকের পর কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেয় উড়ান পরিষেবা প্রায় দু মাসের জন্য বন্ধ রাখার। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবনে যে বৈঠক ডেকেছিলেন সেই বৈঠকে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রীকে ডাকা হয় একটাই কারণে। ভারতের আকাশপথ আপাতত বাংলাদেশকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সূত্রের খবর, ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করে তদারকি সরকারের মন্ত্রীরা দেশ ছাড়তে পারেন। সেই পথ বন্ধ করতে আকাশসীমা ব্যবহারে আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ভারতের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে রয়েছে তদারকি সরকারের ‘কচি সংসদ’-য়ের সদস্যরা এখন পালিয়ে যেতে পারলে বাঁচেন। কিন্তু বাংলাদেশি পাশপোর্ট দেখে আর কোনও দেশ সংসদ সদস্যদের ভিসা দিতে চাইছে না। তাছাড়া তদারকি সরকারের মন্ত্রী সেপাইরা যেখানেই যাবেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হাতে তাদের চূড়ান্ত হেনস্থা হতে হবে। তার একটা নমুনা দেখেছেন খোদ ইউনূস এবং তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গরা। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে ডিম বৃষ্টির সাক্ষী ছিলেন তাঁরা। বাকি থাকে শ্রীলঙ্কা। কলম্বো জানিয়ে দিয়েছে, তারা বাংলাদেশের বিমানকে রিফুয়েলিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। হাসিনার প্রতি বাংলাদেশের বাসীর কাছে একটি আবেগ। আবেগ ভারতবাসীর কাছেও। সে কারণে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে তারা আশ্রয় দিয়েছে। আর সেটাই ইউনূসের কাছে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমস্যা হল তদারকি সরকারের প্রধান এবং মন্ত্রীদের কোনও দেশ আশ্রয় দিতে চাইছে না। যে আমেরিকা মনে করেছিল ইউনূসকে বসালে তাদের লাভ হবে, তারাও বুঝে গিয়েছে ইউনূস যেমন অপদার্থ, তেমনি চূড়ান্ত ব্যর্থ। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার তাদের জন্য বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে। আইএমএফ-র যুক্তি, বাড়ন্ত ঋণ বা বহিরাগত ঋণের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাংলাদেশ কার্যত গৃহযুদ্ধের পথে এগোচ্ছে। তার বড় প্রমাণ উপদেষ্টাদের যারা ক্ষমতায় বসিয়েছিল, সেই নাহিদ, সার্জিসরা মুখ খুলতে শুরু করেছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই সরকারকে বসিয়ে তারা ভুল করেছে। এই সরকার তাদের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করেছে। সুতরাং, ইউনূস এখন সব দিক দিয়ে বিপদে। পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর তাদের কাছে দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই। কিন্তু কোথা দিয়ে পালাবেন? সভ পথ তাদের জন্য বন্ধ। এদিকে, সীমান্তে বিএসএফ কড়া নজরদারি শুরু করেছে।












Discussion about this post