বাংলাদেশে একটি শব্দবন্ধ প্রবলভাবে আলোচিত। সেটি হল সেফ এক্সিট। গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক তথা এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাহিদ ইসলাম এটি প্রথম সামনে নিয়ে আসেন। তিনি বলেছেন, কিছু কিছু উপদেষ্টা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। কিছু কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে। এখন তারা সেফ এক্সিট খুঁজছে। অর্থাৎ পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছেন। প্রশ্ন হল, দেশে কি আওয়ামী লীগ ফিরে আসছে? ভারতে বসেই কি শেখ হাসিনা পরিকল্পনা করছেন? যদিও তিনি যে পরিকল্পনা ছোঁকে ফেলেছেন, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যদি আওয়ামী লীগ ফিরে আসে, তবে তাদের পালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ উঠতে পারে। নাহিদের পর সারজিস আলমের মুখেও একই কথা শোনা গিয়েছে। এরমধ্যে আবার উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান তুলেছেন। তিনি বলেছেন, আমি কোনও সেফ এক্সিট খুজছি না। আমি দেশেই থাকবো।
অনেকেই বলছেন, তবে কি তিনি বুঝে গিয়েছেন, নির্বাচিত হয়ে কোন সরকার ক্ষমতায় আসবে? সেই সরকার তাকে বা তাদের মাথায় তুলে রাখবে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সেফ এক্সিটের প্রঙ্গটি বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন নয়। ২০০৭-২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত একটি তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল।
ঠিক যেমনটা সেনা সমর্থিত মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সময় ওই তদারকী সরকার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করে ২ বছর ক্ষমতায় ছিল। তখনও উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিটের প্রসঙ্গ ওঠে। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে বেশিরভাগ বিদেশে পাড়ি দেয়। এখনও তাদের দেখা যায় না। অথচ সেই সরকার ছিল যথেষ্ট প্রতাপশালী একটি সরকার। তারা কিছু ভালো কাজও করেছিল। অনেকেই বলছেন, ৫৪ বছরের বাংলাদেশের ইতিহাসে সবথেকে দুর্বল সরকার মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এক এগারোর প্রবল প্রভাবশালী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সহ সেই সময়কার সেনাপ্রধান বাধ্য হচ্ছেন বিদেশে নির্বাসিত সরকার কাটাতে। শুধু তাই নয়, তারা ক্ষমতা আকড়ে ধরে রাখতে চাইলেও, শেষমেশ তড়িঘড়ি নির্বাচন নিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেখানে দাঁড়িয়ে মুহাম্মুদ সরকারের উপদেষ্টাদের কি হবে, সেটাই নিয়েই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। এমন উঠে যাচ্ছে, যে এই সরকার যদি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠ, অবাধ নির্বাচন দিতে না পারে, তবে বেশিরভাগ দেশ তাদের সঙ্গে কাজ করবে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ। এমনকি ভারত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন না হলে তারা কোনওভাবেই কাজ করবে না। সাধারণ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত যে কোনও সরকারের সঙ্গে কাজ করতে রাজি বলে দিয়েছে ভারত সরকার। ফলে
দেশের স্বার্থে মুহাম্মুদ ইউনূসের সরকার অবাধ, নিরপ্কেষ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হয় কিনা, সেটাই দেখার। তবে প্রশ্ন উস্কে দিচ্ছে, ছাত্রনেতাদের মুখে সেফ এক্সিট নিয়ে। সত্যিই কি তারা পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছেন? তবে কি আওয়ামী লীগ দেশে ফিরে আসতে পারে, তেমনটাই ইঙ্গিত পাচ্ছেন তারা?












Discussion about this post