ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার চলছে। একইসঙ্গে ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের আরও অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে যেমন বাংলাদেশের কিছু সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তেমনই রয়েছেন পুলিস ও সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখন বিচার কাজ চলছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তাদের ‘মাই ম্যান’ বলে অবিহিত করা হয়েছে। ডিজেএফআইয়ের ৫ জন সাবেক ডিজি, যাদের পদ মর্যাদা লেফটট্যান্ট জেনারেল। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তরফে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তাই এই গ্রেফতারি পরোয়ানা। অনেকে বলছেন, শেখ হাসিনাকে আটকাতে এই পাঁচ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা। যেভাবে শেখ হাসিনার দল সক্রিয় হচ্ছে, তাতে আসলে মুহাম্মদ ইউনূস আতঙ্কে ভুগছেন।
ইতিমধ্যেই এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাহিদ ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন, সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাদেরকে অতিসত্বর গ্রেফতার করে বিচারের আওয়তায় আনতে হবে। সেনাবাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে জুলাই–আগস্টের স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর সাহসী সদস্যরা, বিশেষত তরুণ অফিসার ও সৈনিকরা জনগণের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আরও লেখেন, নতুন দেশগঠন, সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী এখনো নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এই পথচলায় সংস্কার ও ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার বাইরে নয়। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকেই দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর প্রভাব সেনাবাহিনীতেও পড়েছিল। সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা, বিশেষত যারা র্যা ব বা ডিজিফাই এ দায়িত্বে ছিলেন, তারা গুম, খুন, ক্রসফায়ারসহ নানা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র জনগণের উপর গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে। তিনি বলেন, দেশপ্রেম, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হওয়া উচিত। কিন্তু সততা, দেশপ্রেমের কথা বলতে গেলে, সেগুলি কি আদেও ইউনূসের আমলে আছে? কারণ বেশিরভাগ ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তারা মব করছে। এমনকি কিছুদিন আগে নাহিদ নিজে বলেছেন, উপদেষ্টাদের মধ্যে একাংশ বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তারা রাজনৈতিকদলগুলির সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে। শুধু তাই নয়, পালানোর পথ খুঁজছে তারা। নাহিদ বলতে চেয়েছেন, শেখ হাসিনার নীতি ত্যাগ করে অন্য পথে বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে তারা। যেটা সাধারণ মানুষের মঙ্গল হয়। কিন্তু প্রশ্ন, তাদের আমলে দেশ কি আদেও সুষ্ঠ রয়েছে? এমনকি তিনি উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনীকে কলঙ্কমুক্ত করতে হলে, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনতেই হবে। আমরা আশা করি, সেনানেতৃত্ব এ বিষয়ে সরকার ও ট্রাইব্যুনালকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ইগো বা মর্যাদার প্রশ্ন নয়। এটি রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। কেউ কেউ বলছেন, যদি কোনও সেনাকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে থাকে, তবে অন্য কৌশলে তাদের চাপে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারত প্রশাসন। তাতে পরবর্তীকালে আর কোনও আইনরক্ষক বা দেশরক্ষকরা এমন গুরতর অবপরাধ করতে না পারে। কিন্তু উল্টে তাদের বিরুদ্ধে এমন কঠর পদক্ষেপ, প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে বিস্তর। অনেকে আবার বলছেন, শেষে আবার উলটপুরান না হয়!












Discussion about this post