বাংলাদেশ সেনার তরফ থেকে বলা হয়েছে গুম খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা সহ একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে বাহিনীর ২৫জন সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন। কর্মরত। তারা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি করা হয়েছে। যদিও একটি সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে থেকেও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা পালিয়ে গিয়েছেন। কোনও কোনও গণমাধ্যমের দাবি, পালিয়ে যাওয়া সেনাকর্মকর্তাদের অনেকেই ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। যদিও দিল্লির তরফে এই নিয়ে একটি শব্দ খরচ করা হয়নি। বাংলাদেশের কোন কোনও গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে কম করেও ১০জন সেনাকর্মকর্তা পালিয়ে গিয়েছেন। কারা তারা, সেই তালিকা এবার তুলে ধরা যাক।
সেই তালিকায় প্রথমে আছেন মেজর (অব) জেনারেল কবির আহমেদ। বাংলাদেশের একটি পত্রিকার দাবি, তিনি অনেক আগেই সীমান্ত পার হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। তালিকায় নাম রয়েছেন লেফটেন্যান্ট (অব) মুজিবুর রহমান। ঢাকার দাবি, তিনি দিল্লিতে আছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আছে। যোগাযোগ রেখে চলেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গেও। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের নেপথ্যে যে সব কারিগর ছিলেন, এই মুজিবুর রহমান তাদের মধ্যে অন্যতম। সূত্রের খবর, তিনি চাইছেন এবার অন্তর্বর্তী সরকারের পতন ঘটিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করতে। পালিয়ে গিয়েছেন ডাইরেক্টের জেনারেল অব ফরেন ইন্টেলিজ্যান্সের প্রাক্তন শীর্ষকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) ফজলে আকবর। পালিয়ে যাওয়ার তালিকায় নাম রয়েছে, মেজর জেনারেল শেখ মামুন খালিদ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল মো সইফুদ্দিন আবেদিন, মেজর জেনারেল মো. সইফুল আলম, মেজর জেনারেল আহমেদ তাবরেজ সামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল হামিদুল হক, কর্নেল মাহাদি হাসান। পালিয়ে যাওয়া তালিকায় রয়েছেন ওয়ারেন্ট অফিসার মো জিয়াউর রহমান এবং ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েস। তালিকায় থাকা প্রথম সাতজন ২০০৯ থেকে ২০২৪-য়ের মধ্যে ডিজিএফআই-য়ের প্রধান ছিলেন। সেটাও হাসিনা আমলে।
প্রশ্ন উঠছে তারা গোপনে পালিয়ে যাচ্ছেন অথচ সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা দফতর কিছুই জানে না, এটা কি বিশ্বাস করা যায়? বাংলাদেশের একাংশের মতে, এদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, যারা পালিয়ে গিয়েছেন বলে খবরে প্রকাশ, তারা সকলেই কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলের। তাহলে কী সেনাপ্রধান চাইছেন যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ফিরুক?
তাদের এই গোপন ইচ্ছার কথা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একসঙ্গে এতজন সেনা সদস্যকে বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে আসার পিছনে অনেকই তাঁর হাত দেখছেন। বাংলাদেশের কূটনৈতিকমহলের একাংশের দাবি, এই ওয়ারেন্ট জারি নিয়ে বাহিনীতে তুমুল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সেনা সদস্যরা যে কোনও সময় প্রধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পারেন। সেটা হলে পরিস্থিত আরও ঘোলাটে হবে। তাই, নিজেকে বাঁচাতে এবং আওয়ামী আমলের বাহিনীর সদস্যদের নিরাপদে অন্য দেশে চলে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন। যাকে বলে সেফ এক্সিট।
মানবতা-বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নূর খান লিন্টন জানিয়েছেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হতাশাজনক ঘটনা যে কড়া নজরদারির থাকার পরেও এতজন দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছে। বিষয়টি তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।












Discussion about this post