বাংলাদেশে এখন ঘটনার ঘনঘটা। একদিকে উত্তাল সেনানিবাস। ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠেছে। তার মধ্যে আগুনে ঘি ঢেলেছে ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্ত। সেনানিবাসের একটি ভবনকে অস্থায়ী জেল হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে চাপে পড়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। অন্যদিকে জুলাই ঘোষণাপত্র তৈরি হয়েছে। সেটা ঘিরে বাংলাদেশে চলছে উত্তেজনা। এরমধ্যে ইউনূসের তড়িঘড়ি ইতালি সফর থেকে দেশে ফেরা। সেটা নিয়েও খবর তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। সবমিলিয়ে ওপার বাংলার হাওয়া এখন কোন দিকে বইছে, সেটা নিয়েই রহস্য ঘনিভূত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২৪ জন সেনাকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। যাদের মধ্যে ১৩ জন কর্মরত। একসঙ্গে এতজন সেনা কর্তার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ এর আগে কখনও ওঠেনি। তাদের বিচার সেনা আইনে হবে নাকি ফৌজদারি আইনে তা নিয়ে প্রবল চাপে পড়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। যদিও এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে হবে। সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত এই আইনের অধীনে সেনাবাহিনী র্যাাব, পুলিস সহ সবধরনের শৃঙ্খলা বাহিনীর বিচার করার এক্তিয়ার রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এখন দুই ভাগে বিভক্ত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। একটি ওয়াকার বিরোধী আর অন্যটি ওয়াকারপন্থী। ওয়াকার বিরোধীরায় পাল্লায় ভারী। রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত এমইএস বিল্ডিং নম্বর ৫৪-কে সাময়িক ভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বার্ধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার। এতেই সেনা সদস্যের মধ্যে প্রবল অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ সেনা সদস্যকে গ্রেফতার সেনাবাহিনীর। অনেকে বলছেন, এ তো পাকিস্তানের রিটেক। ওয়াকার উজ জামান সেনাবাহিনীর মধ্যে এমন ঘটনায় যে কতটা চাপে রয়েছেন তা প্রমাণ করে বিদেশ সফর বাতিল। এরমধ্যে এখটি ছিল দিল্লি সফর। যেটা ছিল ১২ থেকে ১৪ই অক্টোবর। অন্যদিকে চারদিনের সৌদি আরব সফর ছিল ওয়াকারের। সবটাই বাতিল করেছেন তিনি। অনেকে বলছেন সেনা অভ্যুত্থানের আঁচ পাচ্ছেন ওয়াকার।
এদিকে রোম সফরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ইতালির প্রধানমন্ত্রী ইউনূসকে সাক্ষাৎ করার জন্য কোনও সময় দেননি। এদিকে তার দেশের মধ্যে যে পরিস্থিতি, তার আগাম খবর পেয়ে দেশে ফিরে আসেন প্রধান উপদেষ্টা। এমনটাই খবর। অর্থাৎ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস অত্যন্ত চাপে। অন্যদিকে জুলাই খসড়া নিয়ে দেশের অন্দরে চলছে প্রবল উত্তেজনা। এখন দেখার, বাংলাদেশের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়!












Discussion about this post