আন্তর্জাতিক মহলে আরও একবার চূড়ান্ত অপমান হলেন তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস।
জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র অবশিষ্ট কনটিনজেন্টকে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বরে তাদের দেশে ফিরে আসার কথা। বাংলাদেশের একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক এই খবর প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানিয়েছে, আর্থিক সংকটের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৮০ সদস্যের এই কনটিনজেন্টের মধ্যে ৭০ জন মহিলা কর্মকর্তা রয়েছেন। মাত্র দুই মাসে আগে তাদের নিয়োগ করা হয়। পত্রিকাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যাদের পুরো কনটিনজেন্ট প্রত্যাহার করতে চলেছে। অপরদিকে ক্যামেরুন, সেনেগাল, মিশরের মতো দেশের কনটিনজেন্ট আংশিকভাবে কমিয়ে দেওয়া হবে।
কনটিজেন্টের নেতৃত্বে রয়েছেন পুলিশ সুপার জান্নাত আফরোজ। তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘জীবনের যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতে চুপ থেকে পরম করুণাময় আল্লাহর সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়ার শিক্ষা আমি আমার বাবার কাছ থেকে পেয়েছি। আমি সব সময় বিলিভ করি আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্য করেন। বাংলাদেশ পুলিশের জাতিসংঘের মিশনের লাস্ট রোটেশনে আমরা। খুব অল্প সময়ের মধ্যে রোটেশন শেষ হয়ে যাবে। আমরা ১৮০ জন আসছিলাম রোটেশন পুরোটা শেষ করার স্বপ্ন নিয়ে। প্রস্তুতিও ওইরকম ছিল। বাট সবার উপরে আল্লাহর প্ল্যান….। আজ সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টাইম রাত ১১টায় (১৪ অক্টোবর) আমাদের অপারেশনাল অ্যাক্টিভিটি শেষ। ’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘এই দেড় মাস আমার কনন্টিনজেন্টের সবাই জান-প্রাণ দিয়ে ডিউটি করেছে। কারণ, জাতিসংঘের ব্য সংকোচন নীতি সম্পর্কে আমারা আগেই জেনেছিলাম। জানতাম যে মিশন শেষ হয়ে যাবে। তাই, সবাই চেষ্টা করছিল যেন ডিউটিতে কোনও ভুল না ধরতে পারে। বাট, এত তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্তে আসবে আমরা কেউ বুঝতে পারিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ পুলিশের সদর দফতরের এক কর্তা এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। কর্তাটি বলেন, ‘আমাদের ইউনিট কম্যান্ডারকে মৌখিকভাবে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইউনিটের ফিরে আসার কথা। আমরা এখনও লিখিতভাবে কিছু পায়নি। এফপিইউ (ফর্মড পুলিশ ইউনিট) ভালোই কাজ করছিল। এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক।’ এই বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের এক শীর্ষ কর্তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া দিতে অস্বীকার করেন। প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি পুলিশের সদর দফতরের সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া এবং জনসংযোগ) এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন।
তবে এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওই পত্রিকাটিকে বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে কূটনৈতিক দূর্বলতাকে প্রকাশ করছে। তাঁর কথায়, ‘জাতিসংঘ সাধারণভাবে সদস্যসংখ্যা কমালে সেটা সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশের এফপিইউ –কে নভেম্বরের মধ্যে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি পুলিশের জন্য যেমন হতাশার, তেমনি জাতির জন্যেও। সরকারের উচিত ছিল জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার। ’
সূত্র বলছে, কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে ১৬২ জন সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। আর বাকি ১৮ সদস্যকে প্রশাসনিক এবং লজিস্টিক কাজকর্ম শেষ করার পর ফিরিয়ে আনা হবে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, জাতিসংঘ সদর দফতরে স্থায়ী প্রতিনিধিকে বাংলাদেশের বিষয়ে ইতোমধ্যে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এখনো তারা কোনও সিদ্ধান্ত নেননি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post