কিছুদিন আগে বাংলাদেশের অচলাবস্থার নিরিখে একটি প্রতিবেদন লিখতে গিয়ে একুশে আইন কবিতার কয়েকটি পংক্তি উল্লেখ করেছিলাম। আবারও উল্লেখ করতে হয়। এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সেনাবাহিনী। সুষ্পষ্টভাবে সেনাপ্রধান ওয়াকার। মূল প্রশ্ন, সেনাপ্রধান ওয়াকারকে কি গ্রেফতার করা হবে? এই ঘটনার নিরিখে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠে আসছে।
কাউকে গ্রেফতার করলে তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে পেশ করতে হয়। তাছা়ড়া এই সেনাকর্তাদের রাখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি গত রবিবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত এমএসই বিল্ডিং নম্বর ৫৪-কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হল। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।’
প্রথমত বিজ্ঞাপনে একবারের জন্য উল্লেখ করা হয়নি, কাদের সেখানে রাখা হবে। তাছাড়া সামরিক কোনও এলাকায় কোনও কিছু করতে গেলে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করাই রেওয়াজ। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখা গেল বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সরকার। সেটা আদৌ করা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যে সব সেনাকর্তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে তাদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এমনিতে এই গ্রেফতারি নিয়ে বাহিনীর একাংশ রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, প্রাক্তন এবং কর্মরত সেনাকর্মীদের এভাবে বিচারের আওতায় এনে বাহিনীর মান সম্মান জলে দেওয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা চার্জ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তারা আদৌ অপরাধী নয়। কারণ, তারা কারও নির্দেশ কার্যকর করেছে। বিচার যদি করতেই হয়, তাহলে যিনি বা যে এই নির্দেশ দিয়েছে, তাঁকে আগে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা দরকার।
তাদের অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়া অভিযুক্তদের ছবি। এই ঘটনা মানবাধিকারের পরিপন্থী। প্রথমতো কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা মানেই সে অপরাধী নয়। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। তখন আদালত তাকে দোষী বলতে পারে। শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের দোষী বলা যায় না। তাহলে কেন তাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়া হল। আর এই আইন সব দেশেই প্রযোজ্য। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে সুষ্পষ্ট করে বলা হয়েছে। বাংলাদেশে বাহিনীর সঙ্গে যা করা হচ্ছে সেটা সব ধরনের আইনকেই লঙ্ঘন করছে।
প্রথমে নিশানা করা হয়েছিল পুলিশকে। পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এবার নিশানায় সেনাবাহিনী। তারা নিশানা হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির।
যে কোনও দেশের সেনাবাহিনীর তিন শাখা একটি শক্ত কাঠামো। সেই কাঠামো ভেঙে দেওয়ার অর্থ দেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া। বাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস না করলেও বাহিনী যাতে আগামীদিনে মেরুদণ্ড সোজা করে না দাঁড়াতে পারে, সেটাই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির মূল লক্ষ্য।
সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকারের ভূমিকাও আতসকাচের নীচে। যদিও তিনি দেখাতে চাইছেন বা বোঝাতে চাইছেন তিনি বাহিনীর পাশে। বাহিনীকে রক্ষা করার দায়িত্ব তার। আদৌ না। তিনি বাহিনীর মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চাইছেন।
সম্প্রতি এনসিপির বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এবং বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। গত বছরের অভ্যুত্থানের সময় দলের কিছু নেতা ডিজিএফআইয়ের এক কর্তার গাড়িতে চেপে গণআন্দোলনের মাঝে ঢুকে পড়ে নির্বিবাদে গুলি চালায়। সুতরাং, এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে, ওই আন্দোলনে সামরকি বাহিনীর একটি অংশ জড়িত ছিল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post