সকলেই জেনে গিয়েছে বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ছাড়াও কর্মরত ১৫ জন কর্তাকে হেফাজতে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাঁদের সাধারণ কারাগারে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপসচিব মো. হাফিজ আল আসাদের সই করা একটি বিজ্ঞপ্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে – ‘বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-য়ের ৫৪১(১) য়ের ক্ষমতাবলে এবং কারাগার আইন ১৮৯৪-য়ের ধারা ৩ (বি) অনুসারে সেনানিবাস্থ বাশার রোড সংলগ্ন উত্তরদিকে এমইএস (মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিস) বিল্ডিং নম্বর ৫৪-য়ের ঢাকা সেনানিবাস, ঢাকাকে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যথাযথভাবে অনুমোদনক্রমে এই আদেশ জারি করা হইল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই আদেশ জারী করা হইল। ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে। ’
এই নির্দেশিকা ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, আসামীরা কোথায় থাকবেন, সেটা জানিয়ে দেবে ট্রাইব্যুনাল। যদিও কর্মরত যে ১৫জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে, তাদের রাখা হয়েছে এই সাব জেলে। প্রশ্ন এখানে। ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ইতিমধ্যে তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর তারা একটি খবর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ১৫ জন সেনাকর্মকর্তাকে বিশেষ কারাগারে রাখার সিদ্ধান্ত সংবিধান প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি এবং সংবিধান প্রদত্ত সমানাধিকারকে লঙ্ঘন করছে। কেন সরকার তাদের সেখানে রাখার সিদ্ধান্ত নিল এবং বিবেচনা করল সেটা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। আইনের চোখে সকলে সমান। টিআইবির তরফ থেকে সরকারের কাছে দাবি করা হচ্ছে এই সিদ্ধান্ত যেন অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হয়।
টিআইবি-য়ের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বিশেষ কাউকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করাটা ন্যায়বিচারের বিরোধী। একই অভিযোগ অনেকে সাধারণ জেলে রয়েছেন। তাহলে কর্মরত সেনাকর্তাদের জন্য কেন বিশেষ সাব জেল তৈরি করা হল।’
সেনানিবাসের রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে একটা গুঞ্জন, বলা ভালো একটা জোরাল প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই ১৫জন সেনাকর্তা যাদের জামাই আদরে সেনানিবাসের বিশেষ কারাগারে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেখানে বসে তারা তলে তলে তদারকি সরকারকে ফেলে দেওয়ার নীল নকশা তৈরি করবে না তো? সেখানে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রবেশাধিকার থাকবে তো? হাসিনা আমলের যে সব মন্ত্রী আমলা নানা দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন, যাদের বিরুদ্ধে গুম খুন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে, তারা রয়েছেন জেলে। তাহলে একই অপরাধে অভিযুক্ত ১৫ জন সেনাকর্তাকে কেন বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে? এই প্রসঙ্গে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সাম্প্রতিক অতীতে দেওয়া একটি বক্তব্যে তুলে ধরতে হয়। তিনি বলেছিলেন, ওই ১৫ জন সেনাকর্তাকে বিশেষ মর্যাদায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ, তিনি নিজেও একসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ছিলেন। তাই, শত হলেও তিনি তাঁর ঘরের লোকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেবেন, এটাই স্বাভাবিক।
আরও একটা বিষয় লক্ষ্য করার মত। মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা আচমকাই আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। কিন্তু কেন? সাধারণ দৃষ্টিতে এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে, দূতাবাস তার প্রয়োজনে নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে। কালো চোখ কিন্তু অন্যরকম দেখছে। বাংলাদেশের এই সব অস্থিরতার পিছনে তাদের হাত নেই তো।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post