গত বছরের ৫ ই অগাস্ট বাংলাদেশের সেনপ্রধান ওয়াকার – উজ – জামানের নেতৃত্বে সেনা অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই সেনাবাহিনী থেকে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাপন্থী আধিকারিকদের বরখাস্ত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে গুম, খুন ও আয়নাঘর কাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধে মামলা করা হয়। শেখ হাসিনার বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তরফে গত ৮ ই অক্টোবর ২৫ জন সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৫ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর এডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল এমএইচ হাকিমুজ্জামান গত শনিবার ঢাকা সেনা নিবাসে সাংবাদিক সম্মেলনে ১৪ কর্মরত আধিকারিক সহ ১৫ জনকে গ্রেফতারের কথা জানান। এরপরেই অস্থিরতা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে সেনা জওয়ান ও আধিকারিকদের মধ্যে। আটক আধিকারিকদের মুক্তির দাবিতে বিদ্রোহও ঘোষণা করেছেন তারা। এরপরই প্রাণ বাঁচাতে ঢাকা ছেড়ে কুমিল্লা সেনাঘাঁটিতে গা ঢাকা দিয়েছেন জামায়াত ই ইসলামের ঘনিষ্ট সেনাপ্রধান ওয়াকার।
দেশ ছাড়লে পদ হারানোর আশঙ্কায় সেনাপ্রধান ওয়াকার – উজ – জামান। ১২ – ১৪ অক্টোবর ভারত সফরের কথা ছিল ওয়াকারের। দিল্লি থেকে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা ও বিদ্রোহের কারণে দুটি সফরই বাতিল করে দিয়েছেন তিনি। সফর বাতিল করলেও তার কোনও হদিশ পাওয়া যাচ্ছেনা বেশ কয়েকদিন ধরে। আদেও তিনি ঢাকায় আছেন না অন্য কোনও সেনা নিবাসে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোড় জল্পনা।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, প্রাণ বাঁচাতে কুমিল্লায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি জেনারেল নাজিমউদ্দৌলার শরণাপন্ন হয়েছিলেন ওয়াকার। ঢাকার সেনা সদর দফতর ছেড়ে কুমিল্লা সেনা ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। সেখানে তাকে পাহারা দিচ্ছেন প্যারা কমান্ডোরা। গত সেপ্টেম্বরেই নিজের ঘনিষ্ট মিলিটারি অপারেশনসের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিমউদ্দৌলাকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করে কুমিল্লার জিওসি করেছিলেন ওয়াকার।












Discussion about this post