বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে ভোটের ভবিষ্যত্ ঘিরে। এখানেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। তাঁদের যাবতীয় আশঙ্কা মূলত বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে ঘিরে। সম্প্রতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১৫ জন কর্মরত সেনা অফিসার, ১০ জন সাবেক সেনসদস্য এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাঁরা হাসিনা সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিরোধীদের অপহরণ ও নির্যাতন, গুম-খুনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। সেনাকর্তাদের কেন ফাঁসানো হল, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে সিভিল কোর্টে মামলা হল সেটা নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যেই একটা ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। আর সেটা নিয়েই সিঁদূরে মেঘ দেখছেন বিএনপি নেতৃত্ব।
বাংলাদেশে এখন একটাই প্রশ্ন, এই অফিসারদের বিচার সিভিল আদালতে, নাকি সেনা আদালতে হবে? অন্তর্বর্তী সরকার চাইছে, সেনাকর্তাদের বিচার সিভিল আদালতেই হোক। সেটা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। অপরদিকে সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশ চাইছে, ওই অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের বিচার করতে হলে সেনা আদালতেই করতে হবে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ১৪ জন সেনাকর্তাকে ইতিমধ্যেই নিজস্ব হেফাজতে নিয়েছে সেনাবাহিনী। অর্থাৎ তাঁদের যাতে পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারে, সেই জন্যই আগাম ব্যবস্থা। তাঁদের এখনও আদালতে হাজির করানো যায়নি। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর বক্তব্য কি। বিএনপি-র আশঙ্কা, সেনা বাহিনী ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংঘাত তৈরি হলে তার সুবিধা নিতে পারে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লিগ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফের বাংলাদেশে রাজনৈতিক জমি তৈরি করা শুরু করে দেবেন শেখ হাসিনা। এমনটাই মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের একটি সাক্ষাত্কার ঘিরে জোরাল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেখানে ইউনূস এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আওয়ামী লিগ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ নয়। শুধু তাদের কার্যকলাপ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করা রয়েছে। সরকার এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য চিন্তাভাবনা করছে। কারণ বাংলাদেশে আওয়ামী লিগের অনেক সমর্থক রয়েছে। সেই সময়ই বিএনপি-র একাংশের দাবি করছিলেন, মুহাম্মদ ইউনূস আসলে ভোট বানচালের সব রকমের চেষ্টা করছেন। এর পরই সেনাবাহিনীর আধিকারিকদের মামলায় জড়ানো এবং তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে কার্যত ক্ষেপিয়ে তুললেন মুহাম্মদ ইউনূস। আসলে মুহাম্মদ ইউনূসের ফন্দি বুঝে গিয়েছে বিএনপি। তাই আগেভাগেই সেনার বিষয়টিতে সতর্ক করে রাখলেন বিএনপির শীর্ষ নেতা সাহাউদ্দিন আহমেদ।
আসলে একটা গভীর চক্রান্ত চলছে বাংলাদেশে। সেনাবাহিনীকে গোপনে রেখেই ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল থেকে সেনাকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই আন্তর্জাতিক আদালতকেই গ্রাহ্য করতে চাইছে না। তাই তাঁরা ওই সেনাকর্তাদের নিজেদের হেফাজতে রেখেছে। তাঁরা যাতে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতে না পারে। এটা যে হবে, সেটা আগে থেকেই জানতেন মুহাম্মদ ইউনূস। তাই তাঁর সরকার জোরাল বিতর্ক সৃষ্টি করছে। এতে আসন্ন নির্বাচন ধাক্কা খাবে। আর বিএনপিও সেই ফন্দি ধরে ফেলে আসরে অবতীর্ণ হয়েছে।












Discussion about this post