গত সপ্তাহের ৮ অক্টবর ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শেখ হাসিনা সহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তাদের ১৫ জন বর্তমানে বাহিনীতে কর্মরত এবং দশ জন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক। বাকিরা হলেন শেখ হাসিনা সহ বাংলাদেশের সাবেক আওয়ামী লীগের নেতা মত্রী।
উল্লেখ্য কর্মরত অভিযুক্ত অফিসারদের মধ্যে কর্নেল থেকে মেজর জেনারেল পদমর্যাদার অফিসারেরা রয়েছেন। যাদের মধ্যে একজনকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর নাম মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ। তাঁর বিরুদ্ধেও ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পক্ষ থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু ঢাকায় আর্মি অফিসার্স মেসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো.হাকিমুজ্জামান দাবি করেছিলেন, একজন সেনাকর্তা ছাড়া বাকিরা যোগ দিয়েছেন বাহিনীর আহ্বানে।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তিনি কোথায় আছেন তা নিয়ে যখন ব্যাপক আলোচনা চলছে ঠিক সেই মুহূর্তে জানা যাচ্ছে ওই মেজর জেনারেল হলেন কবীর আহাম্মদ এখন কলকাতায়। বাংলাদেশেরই একাধিক সংবাদ মাধ্যম দাবি করছে, তিনি নাকি কলকাতায় নিউটাউনের অভিজাত আবাসন কমপ্লেক্স সনজীবা গার্ডেনে সপরিবারে রয়েছেন। অর্থাৎ রাতারাতি ওই অভিযুক্ত সেনাকর্তা কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতে চলে এসেছেন। বাংলাদেশের আমার দেশ পত্রিকার অনুসন্ধান রিপোর্টে এমনটাই দাবি করেছে। ওই পত্রিকা আরও দাবি করেছে তাই মেজর জেনারেল কবীরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গিয়েছেস গত ৯ অক্টোবর ওই কর্মরত সেনা আধিকারিক বিশেষ ব্যবস্থায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন। এখন কলকাতার নিউ টাউন এলাকায় সনজীবা গার্ডেন কমপ্লেক্সে সপরিবারে অবস্থান করছেন। ঢাকা এবং কলকাতার নিরাপত্তা সূত্রগুলো এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, এই আবাসনেই উদ্ধার হয়েছিল ঝিনাইদহ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের নিখোঁজ সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনারের দেহ। বাংলাদেশের ঝিনাইদহ-৪ থকে টানা তিনবারের সংসদ ও কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন আনোয়ারুল আজীম আনার। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলি দাবি করছে, এর আগে পালিয়ে যাওয়া আরেক সেনাকর্মকর্তা অবসপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আকবর হোসেনও নিউটাউনের সনজিবা গার্ডেনে সপরিবারে অবস্থান করছেন। অর্থাৎ এই মুহূর্তে কলকাতার ওই আবাসনে বাংলাদেশের দু-জন জেনারেল পদমর্যাদার আধিকারিক লুকিয়ে আছেন।
বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল, ওই ২৫ সেনাকর্তার বিচার কিভাবে হবে। এই আবহেই দাবি করা হচ্ছে ওই ২৫ জনের মধ্যে একজন কর্মরত সেনা আধিকারিক পলাতক। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি যে মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, সেটা লুকায়নি বাংলাদেশ সেনাও। ফলে তিনি এখন কলকাতায় লুকিয়ে রয়েছেন এই খবর সামনে আসতেই আলোচনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। পদ্মাপাড়ে আলোচনা চলছে ভারতের মতো বৈরী প্রতিবেশী রাষ্ট্রে কিভাবে একজন কর্মরত সেনা আধিকারিক আশ্রয় নিতে পারলো? তাহলে কি নিরাপত্তায় কোনও ফাঁকফোঁকর রয়েছে? যদিও দাবি করী হচ্ছে, পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সাবেক আমলা, পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলও গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে এই প্রথমবারের মতো কোনও সার্ভিং আর্মি জেনারেলের দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার খবর পাওয়া গেল। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। কারণতাঁদের দাবি, এটা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়। এর পেছনে যে বাংলাদেশের কোনও প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং ভারতের হাত রয়েছে সেটাও দাবি করছেন বাংলাদেশের একাংশ। আর এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে চলে এল। কারণ ওই অফিসার ছিলেন, শেখ হাসিনার সামরিক সচিব।












Discussion about this post