বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে রাজনীতি রয়েছে এ কথা বাংলাদেশিরাও অস্বীকার করেন না। সেই কারণেই বিগত ৫৪ বছরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে ২৯টি অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে। এবারও এরকম একটা অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। যা নিয়ে চলছে চর্চা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তরফে ২৫ জন বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে চলছে টানাপোড়েন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, এই উদ্ভুত পরিস্থিতি আসলে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে জামাতপন্থী এবং মুক্তিযোদ্ধাপন্থীদের লড়াই।
ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের লবি রয়েছে। একদল যদি মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক বা আওয়ামী পন্থী হন, তো আরেক দল জামাত শিবির ঘনিষ্ট। আবার কেউ কেউ বিএনপির সমর্থক। এছাড়াও আরও অনেক মতাদর্শের সেনাকর্তা রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। ফলে মাঝেমধ্যেই স্বার্থের সংঘাত হয় বাহিনীতে। কেউ কেউ দাবি করেন, বর্তমান সেনাপ্রধান আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় হলেও তিনি জামাত ঘনিষ্ট। তাই হাসিনার পতন সহজেই ঘটেছে। যদিও আত্মীয়তার খাতিরে তাঁকে দেশত্যাগ করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। কিন্তু তিনি আদতে প্রথম থেকেই জামাত শিবিরকে সুবিধা দিয়ে চলেছেন। মাঝে মধ্যে ফোঁস করা হল, তাঁর অন্যদিকে নজর ঘোরানোর কৌশল। প্রথম থেকেই দু-নৌকায় পা দিয়ে চলা সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার এবার ফাঁদে পড়েছেন। জানা যাচ্ছে বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাপন্থীরা কার্যত বিদ্রোহ করেছেন। প্রথম থেকেই সেনাবাহিনীর এই অংশটি অসন্তুষ্ট। আসলে যে ২৫ জন সেনাকর্তার অভিযুক্ত তাঁরা প্রত্যেকেই শেখ হাসিনা জমানায় নাকি গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন। এটাই মূল অভিযোগ। অর্থাৎ তাঁরা শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগপন্থী, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। বলা যায় এখন সরকারে রয়েছে জামাত ও এনসিপি জোট। ফলে তাঁরা সেনাবাহিনীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে। তাই হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি খড়গহস্থ হতে গিয়ে জামাত শিবির বেছে বেছে আওয়ামীপন্থী সেনাকর্তাদেরই অভিযুক্ত করেছে। এটা আসলে একটা গভীর চক্রান্ত বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আর এটা করতে গিয়ে তাঁরা বাংলাদেশ সেনার সম্মান ভূলুন্ঠিত করলেন। সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্ষোভের কারনও এটা। ফলে আরও একটা সেনাঅভ্যুত্থান যে কোনও মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বাংলাদেশে। এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে আনুমানিক ৪০ শতাংশ এই মুহূর্তে জামাত শিবিরের পক্ষে। অর্থাৎ জামাতের যে ভাবধারা, বাংলাদেশকে একটা ইসলামিক দেশে পরিণত করা, সেটার লক্ষ্যে এই শিবিরটি কাজ করছে। জেনারেল ওয়াকারও এই দলে, তবে সেনাপ্রধান হিসেবে সরাসরি তিনি এমন কোনও কাজ করেননি যাতে করে এটা প্রমান হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ঘনঘন পাকিস্তানি সেনাকর্তাদের যাতায়াত, আবার বাংলাদেশ সেনারও কিছু কর্তাব্যক্তি পাকিস্তানে যাওয়াকেও আটকাননি সেনাপ্রধান। বাংলাদেশের সেনাসদর বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় পাকিস্তানি সেনার উপস্থিতিও তিনি আটকায়নি সেনাপ্রধান। লেফটান্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসানের মতো কয়েকজন সেনাকর্তাকে গৃহবন্দি করে রাখার খবর রটলেও তা আদৌ হয়েছিল কিনা সেটা স্পষ্ট নয়। সবদিক বিচার করে এটাই বলা যায়, আওয়ামীপন্থীরা বিগত এক বছরে কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। এবার তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতেই ফুঁসে উঠলেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post