ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমদিকে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না দিলেও জানা যায় দূতাবাসে হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণে সরকারের কাছে নিরাপত্তার জন্য আর্জি জানানো হয়েছিল। এদিকে খবর, বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে থাকা উপদেষ্টাদের নানা রকম উপদেশ দিয়ে আসছেন মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি এন্ড জেকাবসন। কিন্তু যখন মার্কিন দূতাবাসে হামলার প্রশ্ন, তখন কেন তিনি নিশ্চুপ? এই প্রশ্নটাই উঠছে। তবে ঢাকাতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। তবে কি বড় কিছু ঘটতে চলেছে বাংলাদেশে?
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুগে যুগে দেখা গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থে কিভাবে ইসলামিক গোষ্ঠীগুলোকে কাজে লাগিয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচূত করতে যে আমেরিকা চাল চেলেছিল, সেটা দিনের আলোর মতো পরিস্কার। তবে কি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় জেল থেকে মুক্তি পাওয়া বিভিন্ন জঙ্গিরাই এই পরিকল্পনা করছে? মার্কিন দূতাবাসে হামলার ছক কষছে তারা? তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাটেজি বুমেরাং হয়ে গেল?
কয়েকটি উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে, যুগে যুগে আমেরিকা বিভিন্ন দেশকে কীভাবে অস্থিশীল করেছে? ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিশরের রাষ্ট্রপতি গামাল আব্দুল নাসেরের ধর্মনিরপেক্ষ আরব জাতীয়তাবাদের পক্ষে উঠে পড়ে লেগেছিল। আমেরিকার নেতারা মনে করতেন, নাসের আমেরিকাকে সাহায্য করতে পারে সোভিয়েত প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত করতে। এটা আটকাতে আমেরিকা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে ব্যবহার করেছিল। যদিও সরাসরি ব্রাদারহুডকে অস্ত্র দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। পরিবর্তে ব্যবহার করেছিল সৌদি আরবকে। ১৯৫৪ সালে নাসের বলেছিলেন, আমি এখনও দেখতে পারছি না কীভাবে কুরান অনুযায়ী শাসন করা সম্ভব হবে। যে কথাটি গোটা ইসলামকে একত্রিত করতে সাহায্য করেছিল আমেরিকাকে।
অন্যদিকে ১৯৫৩ সালে ইরানে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন একটি গোপন অভিযানে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করে। আফগানিস্তানে মার্কিন সহায়তা হল আধুনিক জিহাদী আন্দোলনের সবচেয়ে সবচেয়ে সুপরিচিত উদাহরণ। ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত অপারেশন সাইকোলন ছিল সিআইএ-এর দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল গোপন অভিযান। এর বেশিরভাগ অর্থ আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যেটা অস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য খরচ করা হয়েছিল। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জিয়াউল হকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছিল আমেরিকা। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ইতিহাস কি বলছে।
অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বুমেরাং হয়ে গিয়েছে। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাড়া পাওয়া জঙ্গিরা মার্কিন দূতাবাসেই হামলার পরিকল্পনা করছে। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি গোষ্ঠী ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা করছিল। হামলা করতে পারে এমন তিনজনের পরিচয় নিজস্ব তদন্তের বরাতে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। পরে দূতাবাসের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়। এরপর সোমবার রাত ৯টার পর থেকে মার্কিন দূতাবাস এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের কার্যক্রম হাতে নেয় পুলিশ। সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, রাজধানীর বারিধারা এলাকায় দূতাবাসটিতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও পুলিশের বাড়তি সদস্য সংখ্যা মোতায়ন করা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এলাকায় ডিএমপির গুলশান বিভাগের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা নিজে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করছেন। মার্কিন দূতাবাসে যে ধরণের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে, তাতে স্পষ্ট বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন পর্যায়ে রয়েছে। তবে বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলি যে সক্রিয় হচ্ছে সেটা ভারত অনেক আগে বলেছিল। এখন সচেতন হয়েছে বাংলাদেশের সরকার। যেটা অনেকটা দেরী হয়ে গিয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।












Discussion about this post