জুলাই সনদে যে কলম দিয়ে সই করা হবে এবং যারা সই করবেন, সেই কলম এবং তাদের স্বাক্ষর থাকবে জাদুঘরে। এমনই মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূস। বুধবার ১৫ অক্টোবর তিনি রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন আয়োজিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জুলাই সনদ সাক্ষর অনুষ্ঠানে গোটা জাতি একটি বড় রকমের উৎসবের শরিক হবে। এই সনদ চুড়ান্ত করা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এটা এমন একটা ঘটনা যেহেতু। কিন্তু আমরা যেহেতু ঘটনার ভিতরে আছি, তাই হয়তো অনুভব করতে পারছি না। বাইরে গিয়ে দাঁড়াতে পারলে তখন একটা বিশাল কর্মকাণ্ড মনে হত। মাসের পর মাস, সপ্তাহের পর সপ্তাহ বৈঠক হয়েছে। এক সময় মনে হয়েছিল এই কাজ অপূর্ণ থেকে যাবে। কিন্তু সেটা হয়নি। জুলাই সনদের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তারা প্রত্যেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়েছেন। ’ আলোচনায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলির কাছে তাঁর বার্তা – ‘আপনারা ভেবে চিন্তে নিয়ম-কানুন বের করেছেন। যাতে করে আমরা সবাই মিলে স্বাক্ষর করতে পারি। এটা জাতির জন্য মস্ত বড় সম্পদ হয়ে রইল। সেজন্য আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন।’ তদারকি সরকার প্রধান এও বলেছেন, জুলাই সনদ সই আরও বহু অধ্যায়ের সূত্রপাত ঘটাবে।
উল্লেখ করার মতো বিষয় হল, বাংলাদেশে এমন বহু রাজনৈতিক দল আছে, যাদের কোনও স্বীকৃতি নেই। তারা অতীতে বাংলাদেশে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েছিল কি না, সে ব্যাপারে কারও কাছে কোনও তথ্য নেই। আবার ২৮ টি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এই নিয়ে কোনও কথা হয়নি, খবর তেমনই। সেই সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টি, জাতীয় সামাজতান্ত্রিক দল, ওয়ারকার্স পার্টি।
স্বাক্ষরে দ্বিধা জামায়াত-এনসিপির। আবার বিএনপি একটি বিষয়ে আপত্তি তুলেছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন। ছিলেন দলের অন্যান্য শীর্ষনেতাও। নাহিদ সাফ জানিয়ে দেন, ‘আইনিভিত্তি ছাড়া সনদে স্বাক্ষর করা মূল্যহীন হবে।’ দলের তরফ থেকে তিনটি দাবি পেশ করা হয়েছে। এই তিন দাবি হল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন খসড়া স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগেই প্রকাশ করতে হবে। সনদ বাস্তবায়নের আদেশের খসড়া জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায় অনুসারে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে জারি করতে হবে। জুলাই সনদের বৈধতার উৎস হতে হবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
তাদের দ্বিতীয় দাবি, সনদের ৮৪টি সংস্কারের ওপর গণভোট করা হতে। এতে নোট অব ডিসেন্টের আলাদা কোনও কার্যকারিতা থাকবে না।গণভোটের প্রশ্ন কী হবে, সে ব্যাপারে আগাম সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেটা সব রাজনৈতিক দলকে দেখাতে হবে।
গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিলে নোট অব ডিসেন্টের কোনও কার্যকারিত থাকবে না। গণভোটের রায় অনুযায়ী আগামী নির্বাচিত সংসদ তাদের ওপর প্রদত্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে সংবিধান সংস্কার করবে এবং সংস্কারকৃত সংবিধানের নাম হবে বাংলাদেশ সংবিধান ২০২৬।
তার অর্থ দাড়ায় এনসিপি বর্তমান সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান কার্যকর করা। তবে বিএনপি সনদে সই করতে রাজি আছে। যদিও জামায়াত এবং এনসিপি শেষ পর্যন্ত জুলাই সনদের সই করতে রাজি হয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post