বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন যা চলছে সেটাকে এক কথায় জগাখিচুড়ি বলা যেতে পারে। ডামাডোল চললে তার একটা অভিমুখ থাকে। কিন্তু জগাখিচুড়ি অবস্থার কোনও অভিমুখ থাকে না। বাংলাদেশ সেনা, বিশেষ করে সেনাকর্তা জেনারেল ওয়াকারকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তিনি কি গৃহবন্দী? উত্তর দেবে কে? আর উত্তর যদিও বা পাওয়া যায়, তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বেশ কয়েকজন সেনাসদস্যদের গ্রেফতার নিয়ে বাহিনীর তরফ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, সেই বিবৃতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটার তাজমুলের বিবৃতির মিল নেই।
এর মধ্যে বাতাসে নানা খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তেমন একটি খবর হল সেনাপ্রধান ওয়াকার ক্ষমতা দখল করতে চলেছেন। এই ব্যাপারে তাঁকে সাহায্য করছেন গোলাম আলমের পুত্র ব্রিগেডিয়ার (অব) আজমি। খবর একেবারেই সঠিক নয়। সেনাপ্রধান জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনও অবস্থাতেই ক্ষমতা দখল করবে না। এও শোনা যাচ্ছে তদারকি সরকারের উপদেষ্টাকে সরিয়ে দেওয়ার একটা নীল নকশা তৈরি হয়েছে। সেটাও ঠিক নয়। সে কারণে সূচনাতেই জগাখিচুড়ি শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে।
বাহিনীকে কেন্দ্র করে একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে। সেটি হল বাহিনীতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ভীষণ দূর্বল। তারা সংখ্যায় কম। সেটাও ঠিক নয়। বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির পাল্লা বেশি। এর বাইরে রয়েছে একটি নিরপেক্ষ গোষ্ঠী, যারা অত্যন্ত পেশাদার। কিন্তু তারাও এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। বাংলাদেশ সেনাকে নিয়ে অতীতেও নানা ধরনের ঘটনা এবং রটনা রয়েছে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি আগের সব পরিস্থিতিকে ছাপিয়ে গিয়েছে। কারণ, এতজন সেনাসদস্যদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত এককথায় বেনজির। আর তাতে সেনাপ্রধান ওয়াকার বেশ চাপে পড়ে গিয়েছে।
একটা বিষয় স্পষ্ট যে সেনাপ্রধান কোনও অবস্থাতেই ক্ষমতা দখল করবেন না। সেটা তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়ে দিয়েছেন। এমনকী নানা সময়ে দেওয়া ভাষণেও তিনি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সেনাপ্রধানের অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি কিন্তু বিশেষ একটি রাজনৈতিক ধারার পক্ষে। সেটি হল জামায়াতে ইসলামী। ছোট থেকেই এই রাজনৈতিক দলের প্রতি তাঁর একটা দূর্বলতা ছিল। সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নেওয়ার পর সেভাবে জামায়াতের প্রতি তাঁর দূর্বলতা প্রকাশ পেত না। কিন্তু আজমির সঙ্গে তাঁর সখ্য সকলের জানা। এটা অনুমান করা হচ্ছে, তিনি চাইবেন জামায়াতকে ক্ষমতায় বসাতে। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, বাহিনীর ১০জন সদস্য সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা তাঁকে অনুরোধ করেন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে সেনাসদস্যদের বিচারের ব্যাপারে তিনি যেন হস্তক্ষেপ করেন। কিন্তু সেনাপ্রধান ওয়াকার তাদের সেই অনুরোধে কর্নপাত করেননি। তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়ে দেন, তার পক্ষে এই চাপ নেওয়া সম্ভব নয়।
প্রশ্ন হল সেনাপ্রধান যে সব পদক্ষেপ করছেন, সেটা কার নির্দেশে। সূত্রের খবর জামায়াতে ইসলামীর নির্দেশে তাঁকে এই সব পদক্ষেপ করতে হচ্ছে। জামায়াত চাইছে যে কোনও মূল্যে সেনাবাহিনীকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় আসীন হতে। সেনাপ্রধান ওয়াকারও সেটা বুঝে গিয়েছেন। তাই, তাঁর মানসিক চাপ আগের থেকে অনেক বেশি। তাই, তাঁকে খুব একটা প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। সূত্রের খবর জামায়াতের সঙ্গে সেনাপ্রধান ওয়াকারের একটা ঠাণ্ডা লডা়ই শুরু হয়েছে।












Discussion about this post