বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার দিকে একবার তাকিয়ে দেখা যাক।
কিছুদিন আগে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের উদ্দেশ্যে একটা পরামর্শ দিতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে কোনওরকমের ভারসাম্য নষ্ট হোক। আমরা সেটি অ্যাফোর্ড করতে পারব না। আমরা চাই, আপনার সঙ্গে প্রতিরক্ষাবাহিনীর সুসম্পর্ক বজায় রাখুক। রাষ্ট্র একটি ব্যালান্সড অবস্থায় থাকতে হবে। আমরা নির্বাচন সামনে রেখে কোনওরকম ঝুঁকির মধ্যে যেতে চাই না। যেতে পারব না। সেটি আমরা অ্যাফোর্ড করতে পারব না। ’
জুলাই সনদ নিয়ে বাংলাদেশ তোলপাড়। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে। দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে এমন একটি বৈঠক নিয়মিত ঘটনা হলেও পরিস্থিতির কারণে ভারতের এমআই টিমের এমন সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে সফরটি হয়েছে এমন একটা সময় যখন ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে গত এক বছরের বেশি সময় দরে চলেছে টানাপোড়েন। আবার এর ঠিক পরে পরে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান অনির্ধারিত সফরে দেখতে গিয়েছেন লালমনির হাট ও ঠাকুরগাঁও। এ দুটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি। এই দুটি বিমাঘাঁটি ভারতের চিকেন নেক লাগোয়া। প্রশ্ন উঠছে ভারতীয় এমআই টিমের বাংলাদেশ সফর এবং তার পরে পরেই জেনারেল ওয়াকারের হঠাৎ সীমান্তবর্তী জেলার বিমানবন্দর দেখতে যাওয়ার মধ্যে কি কোনও যোগসূত্র রয়েছে। যদিও দুটি বিষয় নিয়ে সামরিক বাহিনীর তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। যদিও বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্নেষকদের কাছে সেনাপ্রধানের এই পুরানো বিমানঘাঁটি গুলি পরিদর্শনে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আসল কারণ হল ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার কাছে বেশ কিছু স্পর্শকাতর খবর এসেছে। সেই খবরের মধ্যে অন্যতম হলসেনাপ্রধান ওয়াকারের চিকেন নেক লাগোয়া ওই দুই পরিত্যক্ত বিমানঘাটি পরিদর্শন। সেনাসূত্র জেনেছে, বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওই দুই বিমানঘাঁটি নতুন করে তৈরির করার চিন্তাভাবনা করছেন। এবং সেটা পুরোপুরি সামরিক স্বার্থে। সেটা হলে ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে যাবে। ঢাকা বা উত্তরপাড়া যাতে কোনও অবস্থাতেই ওই দুই বিমানঘাঁটিকে সামরিক কাজে ব্যবহার করতে না পারে, সেই বার্তা দিতেই ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার চার সদস্যের এক প্রতিনিধিদল ঢাকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে বৈঠক করেন। গিয়েছিলেন লালমনির হাট এবং ঠাকুরগাঁও। নির্ভরযোগ্য সূত্রে তারা যে খবর পেয়েছে, সেই খবরের সত্যতা যাচাই করতেই তারা ওই দুই জায়গা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়। আর সেনাপ্রধান ওয়াকারকে তারা যে বার্তা দিয়েছেন বা তাঁর হাতে যে তথ্য তুলে দিয়েছেন, সেই তথ্য বা খবরের সত্যতা যাচাই করতে সেনাপ্রধান ওয়াকার ওই দুই জায়গা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা কর্তাদের সফর যে তাঁকে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় এবং চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। প্রবল চাপে রয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান ওয়াকার উজ জামানও। দিল্লির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সে দিকে তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এটা জানিয়ে রাখা ভালো, জাতিসঙ্ঘে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ফাঁকে দুই দেশের বাহিনীর দুই প্রধান একান্ত আলাপ চারিতায় মিলিত হন। সেই খবরও ইউনূস পেয়ে গিয়েছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post