বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন, ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা কর্তাদের সে দেশে ঢোকার অনুমতি কে দিলেন? সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার নাকি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস? এই প্রশ্নগুলি নিয়েই চলছে তুমুল কাটাছেঁড়া। কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই নিয়ে নানা যুক্তি সাজাচ্ছেন। তবে বড় অংশটি বলছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এখন দ্রুতই হাওয়া ঘুরছে। ফলে প্রত্যেকেই নিজের নিজের মতো করে ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার চেষ্টায় রত। যেমন জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। বাংলাদেশের একটা বড় অংশের মানুষ দাবি করতেন তিনি ভারতপন্থী জেনারেল। কিন্তু গত বছর ৫ আগস্ট ও তার আগে পড়ের ঘটনা প্রমান করেছে তিনি জামাতঘনিষ্ট। হাসিনার পতনের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেই ফেলেছিলেন জামাত নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছিল। পরবর্তী সময়ও দেখা গিয়েছে জামাতের বহু ফন্দিফিকির তিনি আটকানোর চেষ্টাও করেননি। কিন্তু সম্প্রতি তিনি ইউনূসের ফাঁদে পা দিয়ে বসেছেন। ফলে তাঁর পদটি টলমল করছে। অন্যদিকে, জামাত ও ছাত্রনেতাদের আহ্বান সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা পদে যোগ দিয়েছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। সেই থেকে বিগত ১৫ মাস তিনি জামাতের কথায় ওঠেন-বসেন। জেনারেল ওয়াকারকে সরানোর বহু চেষ্টা করেও তিনি শেষ পর্যন্ত সফল হননি। সেনাপ্রধানকে সরাতে পারলেই তাঁর পথের কাঁটা সরবে। এবারে তাই মরণকামড় দিতে চাইছেন মুহাম্মদ ইউনূস। তাহলে বোঝা যাচ্ছে, ইউনূস বা জেনারেল ওয়াকার, প্রত্যেকেই ভারতবিরোধী অবস্থানে রয়েছেন। তবুও ভারত একটা বড় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। সেটা কিভাবে?
বিশ্লেষকদের একাংশ দাবি করছে, খেলা ঘুরে গিয়েছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে। যেবার জামাতপন্থী জেনারেলদের চক্রান্তে প্রায় সেনা অভ্যুত্থান ঘটতে চলেছিল বাংলাদেশে। জেনারেল ওয়াকারকে সরানোর নীলনকশা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল কামরুল হাসানের নেতৃত্বে একজন সেনাকর্তা সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেবার ভারত একটা মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে ক্যু হওয়ার সম্ভবানা নিয়ে ভারতীয় গুপ্তচরদের গোপন রিপোর্ট পৌঁছে যায় জেনারেল ওয়াকারের টেবিলে। তাঁকে কি কি করতে হবে সেটাও সেই রিপোর্টে বলা ছিল। যা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে সে যাত্রা নিজের পদ ও জীবন বাঁচান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার। সেই প্রথম বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢোকার সরু লাইন করে ফেলেছিল ভারত। সম্প্রতি, ভারতের নয়া দিল্লিতে জাতিসংঘের এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। জাতিসংঘের যে যে দেশগুলি শান্তিবাহিনী মিশনে অংশ নেয়, সেই দেশগুলির সেনাপ্রধানদের নিয়ে এক সম্মেলন ছিল। ওই অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পেয়েছিল ভারত। কিন্তু ভারতের আমন্ত্রণে সাড়া দেননি জেনারেল ওয়াকার। কিন্তু বিশ্লেষকদের দাবি, এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই ভারতীয় সেনা নতুন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। আর্মি টু আর্মি যে যোগাযোগ থাকার কথা দুই প্রতিবেশী দেশের, সেটা কার্যত থমকে গিয়েছিল। এই সুযোগে ভারত পুনরায় সেটা চালু করে নেয়। প্রতিটি দেশের কূটনৈতিক মিশনে একজন করে আর্মি অ্যাটাসে থাকেন। তাঁদের মাধ্যমেই ভারতীয় সেনা গোয়েন্দাদের দল পাঠানোর ব্যবস্থা করে ফেলে ভারত। আর ইউনূসকে চাপে ফেলতে সেনাপ্রধান ওয়াকার ভারতীয় সেনা গোয়েন্দা কর্তাদের সফরের অনুমতি দিয়ে দেন বলেই দাবি। ফলে এবার মুহাম্মদ ইউনূসকেও পরিকল্পনায় বদল আনতে হচ্ছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post