চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের ঘটনা। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের বিরুদ্ধে কয়েকজন পাকিস্তানপন্থী জেনারেল কার্যত বিদ্রোহ করেছিল। সেনাপ্রধানকে পদ থেকে সরিয়ে বন্দি করার ছকও হয়ে গিয়েছিল। তাঁকে সরিয়ে ১ লক্ষ ৬৩ হাজার সদস্যের শক্তিশালী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা পাকা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় গোয়েন্দারা সেই খবর পেয়ে যান। ফলে ভারতের সহায়তায় সেই অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা সফলভাবে ব্যর্থ করেছিলেন জেনারেল ওয়াকার। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে সেবার গুরুতর চ্যালেঞ্জটি মোকাবেলায় সহায়তা করে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরে এবং বাইরে বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের উপর একটি উল্লেখযোগ্য আঘাত করেছিল। কিন্তু ভারত কিভাবে ওই গুরুতর বিষয়টি জানতে পেরেছিল? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটা সম্ভব হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতীয় গুপ্তচরদের একটা শক্তিশালী নেটওয়ার্কের জন্যই। শেখ হাসিনার আমলেও বাংলাদেশে সক্রিয় ছিল ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইংস বা “র”। তবে হাসিনার পতনের পর র তাঁদের নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করেছে বলেই দাবি করলেন বাংলাদেশের এক প্রাক্তন সেনাকর্তা।
বাংলাদেশের সংবাদপত্র দৈনিক ইনকিলাবকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জে এইচ আর এম রোকন উদ্দিন আজব কিছু দাবি করেছেন। প্রথমত, বাংলাদেশ সেনার প্রাক্তন ওই কর্তার বিস্ফোরক দাবি, বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতের বিভিন্ন ভিসা অফিসগুলি নাকি আদতে গুপ্তচর সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিসের কার্যালয়। দ্বিতীয়ত তিনি দাবি করেছেন, ইস্কনের যতগুলো সেন্টার আছে বাংলাদেশে, এগুলো আসলে আরএসএস-এর সেন্টার। সরকারকে এসব বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। পাশাপাশি বর্তমান ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সরকার প্রতিরক্ষা বাহিনীর কোনো বিষয়কেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে না। নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। মজার বিষয় হল, বাংলাদেশের প্রাক্তন ওই সেনাকর্তা ভারতের নাম না নিয়ে বলেছেন, ওরা যদি আমার একজন মারে, আমি তিনজনকে মেরে জবাব দেব। ইট মারলে পাথর খেতে হয়, এই নীতি গ্রহণ করতে হবে। দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে দেখা দিলে কেউ সম্মান করবে না।
বোঝাই যাচ্ছে, প্রাক্তন এই সেনাকর্তা জামাতপন্থী। তাই তাঁর কথার প্রতিটি ছত্রে ভারত বিদ্বেষ ফুটে উঠেছে। কিন্তু তিনি যে দাবি করেছেন বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় ভারতের যে ভিসা আফিসগুলি রয়েছে সেগুলি আসলে র-এর অফিস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা ঠিক নয়। কারণ, ভারত বা অন্যান্য দেশের গুপ্তচর সংস্থা এভাবে কাজ করে না। যদিও কূটনৈতিক মিশনগুলির আড়ালে কয়েকজন গুপ্তচরকে লুকিয়ে রাখা হয় সাধারণত, তবে সেটা অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে করা হয়। যদিও এই প্রাক্তন সেনাকর্তা প্রথম নয়। এর আগে আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তাঁর ফেসবুক পেজে সরাসরি দাবি করেছিলেন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর স্টেশন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাজেশ কুমার অগ্নিহোত্রী নামের এক কূটনৈতিক। জুলকারনাইন লিখেছিলেন, অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হল, ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পরও রাজেশ কুমার অগ্নিহোত্রী ঢাকায় ‘র’ এর স্টেশন চিফ হিসেবে ভারতীয় হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরের কভারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর আরও দাবি ছিল, রাজেশ অগ্নিহোত্রী দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সম্প্রতি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। এসময় তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানান। জুলকারনাইনের দাবি, ২০১৬ সালে পাকিস্তানও নাকি রাজেশকে তাদের দেশে নিযুক্ত ‘র’ এর স্টেশন চিফ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
বাংলাদেশে যে ভারতের গুপ্তচর সংস্থা সক্রিয়, সেটা বরাবরই দাবি করে আসছে জামাত-এনসিপি শিবির। তাঁদের অভিযোগ, বাংলাদেশে যা কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে বা সে দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক যে অস্থিরতা চলছে, তাতে নাকি ভারতেরই হাত রয়েছে। এবার এককাঠি উপরে উঠে প্রাক্তন সেনাকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জে এইচ আর এম রোকন উদ্দিন দাবি করে বসলেন, বাংলাদেশে নাকি ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার ৬৪টি কার্যালয় খুলে রেখেছে। যদিও এই আজব দাবি নিয়ে ভারত সরকার কোনও মন্তব্য করেনি এখনও।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post