পনেরো মাস হয়ে গেল বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ছিল এক গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। কিন্তু এতদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও বাংলাদেসে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্রের অন্ত নেই। এই মুহুর্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ধ্যান-জ্ঞান শুধুই আওয়ামী লীগ তথা সেই দলের সর্বোচ্চ নেত্রী শেখ হাসিনাকে যতভাবে সম্ভব প্যাচে ফেলা। হাসিনা-সহ গোটা রাজনৈতিক দলটাকেই বাংলাদেশ থেকে দূরে রাখতে একের পর এক ষড়যন্ত্রের প্লট সাজিয়ে চলেছে সরকারের নিয়ন্ত্রকরা। একদিকে যেমন মামলা মোকদ্দমার মাধ্যমে হাসিনাকে জড়িয়ে ফেলেছে অন্তর্বর্তী সরকার অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে চলছে নানা চক্রান্ত। এ কথা ভাবার যথেষ্টই কারণ রয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা যা নিয়ে চর্চা করছেন দিবারাত্র। যেমন বাংলাদেশের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি আইনজ্ঞ হয়েও কিভাবে যেন জ্যোতিষশাস্ত্রে মহাপণ্ডিত হয়ে গিয়েছেন। গত সপ্তাহেই তিনি আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে দাবি করেছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে অনেকগুলো ঘটনা ঘটবে! আর দেখুন কি সুন্দরভাবে তাঁর ভবিষ্যতবাণী মিলেও গেল।
গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গেল। এগুলো কি নেহাতই কাকতালীয়, নাকি এর পিছনেও রয়েছে মেটিকুলাস ডিজাইন? প্রশ্ন কিন্তু ইতিমধ্যেই উঠে গিয়েছে। শনিবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি সংঘটিত একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনতার মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার সেই বিষয়ে গভীরভাবে অবগত”। কয়েকদিনের ব্যবধানে একাধিক অগ্নিকাণ্ড নিছকই দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও নাশকতা? এমন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের আমজনতার মধ্যেই। সামাজিকমাধ্যমেও নানা ধরনের আলোচনা চলছে এ বিষয়ে। গত শনিবারই সবচেয়ে বিধ্বংশী আগুনের ঘটনা ঘটেছিল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সামগ্রী। বিমানবন্দরে আগুন ছাড়াও গত মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুর এলাকার একটি পোশাক কারখানায় আগুন লেগেছিল, সেখানে মৃত্যু হয়েছিল ১৬ জনের। এরপর এক রাসায়নিক গুদামে আগুন লেগেছিল। সে আগুনে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও সেটা নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল দমকল বিভাগকে। তারপরেই ঘটল ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের অগ্নিকাণ্ড। যা নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে এখন মিল খুঁজছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডে এবার সামনে এল নতুন তথ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে আনা ১৮ টন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বলে দাবি। বাংলাদেশের পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে তৈরি হচ্ছে সে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘রূপপুর’। প্রকল্পের প্রস্তাবিত দুটি ইউনিটের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। যা এখন বিশ বাও জলে। শেখ হাসিনার আমলে যে প্রকল্পগুলি বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তার মধ্যে অন্যতম এই রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা রাশিয়ার সহযোগীতায় গড়ে তোলা হচ্ছিল। বিমানবন্দরের কার্গো হোল্ডের যে অংশে শনিবার দুপুরে আগুন লেগেছিল, সেখানেই রাখা ছিল রূপপুর কেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে আসা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম। পণ্য খালাসের দায়িত্বে থাকা সংস্থার এক আধিকারিকের দাবি, ৬ দিন আগেই রাশিয়া থেকে ওই সংবেদনশীল পণ্যগুলি এসেছিল। যেগুলির সম্মিলিত ওজন ১৮ টন। সেই পণ্য খালাস করতে গেলে পরমাণু শক্তি কমিশনের ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা এনওসি দরকার হয়। সেই প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়ার কারণে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পণ্যগুলি খালাস করা যায়নি। তিনি আরও দাবি করেছেন, রবিবারই পণ্যগুলি খালাসের কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই সব শেষ।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, বিমানবন্দরের ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনও নাশকতার ছক ছিল কি না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন। প্রথমত আগুন লাগার সময়কাল, বাংলাদেশে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। ফলে কার্গো ভিলেজে বহু পণ্য জমে গিয়েছিল খালাসের অপেক্ষায়। শনিবার দুপুরের পর আগুন লাগায় অতিরিক্ত পণ্য পুড়ে ছাই হল, সেই পরিমান ক্ষয়ক্ষতিও হল। দ্বিতীয় প্রশ্ন উঠছে, দমকল বিভাগ দেড়িতে কাজ শুরু করায়। দমকল বিভাগের দাবি ছিল, বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতির অপেক্ষায় প্রায় একঘণ্টা দেড়িতে তাঁরা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে ঝাঁপিয়েছিলেন। আর ক্ষয়ক্ষতি চর্চা করতে গিয়ে উঠে আসছে, কেবলমাত্র পোশাক শিল্পেরই ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার। এই দাবি করছে বাংলাদেশের বস্ত্র রফতানিকারকদের সংগঠন। ইউনূসের আমলে যে শিল্পটি ধিকিধিকি করে চলছিল, মীরপুর ও কার্গো ভিলেজের আগুন পোশাক শিল্পের কোমর ভেঙে দিল। আর রূপপুর পারমানবিক কেন্দ্রের যে ক্ষতি হল, তাতে আদৌ সেটা চালু হবে এই গ্যারান্টি কেউ দিতে পারছেন না। এটা চক্রান্ত নাকি কাকতালীয়?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post